Sunday, 30 December 2018

একটি সিধান্ত

আমরা যে সমাজে জীবনযাপন করছি আমাদের পরিবার-পরিজনকে নিয়ে, এ সমাজটির এখন কি অবস্থা তা হয়তো আপনারা অনেকে ভালো করে জানেন। এ সমাজে আজ কোনো নারী নিরাপদ নয়, কোনো মানুষ নিরাপদ নয়; অথচ এই নিরাপদ জীবন সমাজের দৃশ্যতায় প্রতিষ্ঠা করার জন্য এ পর্যন্ত অনেক আইন-কানুন, সিস্টেম রচনা করা হয়েছে এবং সেগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হয়েছে কিন্তু সমাজকে নিরাপদ করতে সক্ষম হয়নি সে সব মানুষের রচিত আইন-কানুন। কারণ
.
বিষবৃক্ষ কোনোদিন মিষ্ট ফল দিতে পারে না, এটা প্রাকৃতিক নিয়ম। যে সিস্টেম যে প্রথা মানুষের ক্ষুদ্র মস্তিষ্ক হতে তৈরি, সে সিস্টেম বা প্রথা দিয়ে কোনোদিন শান্তি আসবে না এটা প্রমাণিত হয়েছে যুগে যুগে। আজ আমরা যে পথ অনুসরণ করছি যে পথে হাঁটছি সে পথ শুধু কাটায় ভরা। এ পথে অতীতে যারা চলেছে তারা এক মুহূর্তের জন্যও শান্তি লাভ করতে পারেনি। এই গণতন্ত্র এই সমাজতন্ত্র শুধু অসংখ্য মায়ের বুকখালি করেছে অসংখ্য বনিতার চোখে অশ্রু ঝড়িয়েছে, মানুষের মুখে হাসি ফুটাতে পারেনি।
.
আপনারা কি চান না এমন একটা সমাজ যেখানে কোনো অন্যায় থাকবে না কোনো অবিচার কোনো অত্যাচার থাকবে না। আপনারা কি চান না এমন একটা সমাজ যেখানে আপনাদের পিতা-মাতা-ভাই-বোন সবাই নিরাপদে বসবাস করতে পারে। তবে কেন ক্ষুদ্র স্বার্থের জন্য নিজের মানবতাবোধকে বিক্রি করে দিচ্ছেন স্রষ্টাহীন সভ্যতার কাছে অসৎ কিছু মানুষের কাছে।
.
যদি চান তবে আসুন আমরা সবাই স্রষ্টার সেই সত্য ন্যায়ের ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ হই এবং এমন একটি সমাজ এমন একটি পৃথিবী আমাদের সম্প্রীতি পারস্পরিক ভালোবাসা দিয়ে নির্মাণ করি যেথায় কোনো অন্যায় থাকবে না, কোনো অত্যাচার থাকবে না কোনো অবিচার থাকবে না। যদি আমরা সিধান্ত নেই যে আমরা সবাই এক স্রষ্টার অনুগত হবো, বিভেদ হয়ে থাকব না মতভেদ করব না, তবে কোনো কিছুই আমাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না এবং আমরা হবো সৃষ্টির মাঝে এক স্বর্গবাসী গোষ্ঠী।

সঠিকটা জানুন

হেযবুত তওহীদ কি বলতে চায়, কি বলছে, তা আগে জানুন। না জেনে-না শুনে আমাদের বিরুদ্ধে অপবাদ আরোপ করবেন না। আমরা মানবতার কল্যাণে আমাদের জীবন সম্পদ উৎসর্গ করেছি, মানুষের ক্ষতি করার জন্য না। সমাজে বিশ্বে যে অন্যায় অশান্তি বিরাজিত তা থেকে আপনারা মানুষকে মুক্তি দিতে পারেননি, এটা আজ প্রমাণিত। কারণ আপনারা যে পথ অবলম্বন করেছেন সেটা ভুল পথ। নিখুঁত নয় সে পথের সাজানো বিষয়বস্তু।
.
আমরা শুধু এই বলতে চাই যে, মানুষ শুধু দেহ নয় তার আত্নাও রয়েছে, আপনারা যতই মানুষের দেহকে শৃঙ্খলায় আবদ্ধ করে রাখুন না কেনো, যতক্ষণ না মানুষের আত্মার পরিবর্তন আনতে পারছেন, ততক্ষণ সমাজে বিশ্বে শান্তি আসবে না।
.
আমরা সেই কথাটাই বলছি গত ২৩ বছর ধরে যে, আসুন মানুষের আত্মার পরিবর্তনের দিকে নজর দিই। আসুন এমন একটা জীবনব্যবস্থা আমরা অনুসরণ করি যে জীবনব্যবস্থায় কোন ক্ষুত নেই। যে জীবনব্যবস্থায় কোনো বিভেদ-মতভেদ নেই। মানুষের তৈরি রচিত জীবনব্যবস্থা দিয়ে আমরা দেখেছি কি ফল হয়েছে সমাজে বিশ্বে, গণতন্ত্র-সমাজতন্ত্র-ফ্যাসিবাদ-রাজতন্ত্র, ইত্যাদি অনেক জীবনব্যবস্থা ইতোমধ্যে আপনারা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখেছেন সমাজে বিশ্বে, সে সব তন্ত্র-মন্ত্র, একদিনের জন্যেও মানুষকে শান্তি দিতে পারেনি। সব তন্ত্র-মন্ত্র ব্যর্থ হয়েছে।
.
কারণ যিনি আমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন তিনিই ভালো জানেন আমরা কোন পথে ভালো থাকবো, কোন পথ অনুসরণ করলে আমরা শান্তি লাভ করবো। আর তিনি তার প্রমাণও দিয়েছেন যুগে যুগে নবী-রসুল প্রেরণ করে। যখনই সমাজ অন্যায় অশান্তিতে লিপ্ত হয়েছে তখনি তিনি নবী-রসুল প্রেরণ করে তা ন্যায় সত্য দিয়ে শান্তিময় ও আলোকিত করেছেন। আর মানুষ ফিরে পেযেছে সুন্দর এক সমাজ। আমরা যে উন্নতির বড়াই করছি, একটু চেয়ে দেখুন তো এ উন্নতি মানুষকে কী দিয়েছে?
.
যে মানুষগুলো মানুষের ক্ষতি করতে জানতো না, সে মানুষগুলো আজ মানুষের ক্ষতি করতে উঠেপড়ে লেগেছে, যে সমাজে নারীরা ছিলেন সৌন্দর্যের প্রতীক, আজ সে সমাজে প্রতিটা মুহুর্তে নারীরা নির্যাতিত- লাঞ্ছিত অপমানিত হচ্ছে। আজ ভাই ভাইকে হত্যা করছে ক্ষুদ্র স্বার্থের জন্য, আজ মানুষ মানুষের বেহালদশা দেখে পাশে দাঁড়ানোর জন্য উদগ্রীব হয়ে উঠেনা। আজ আপনারা বলেন, আপনারা নাকি উন্নতি লাভ করেছেন, অথচ এখনো পৃথিবীর বুকে ৬ কোটি মানুষ উদ্বাস্তু। মানুষ আজো সমাজে এক মুঠো খাবারের জন্য মানুষের দরজায় দরজায় ঘোরে।
.
কিন্তু আপনারা ভুলে গিয়েছেন আল্লাহর সেই মহা পরিবর্তনের ইতিহাস, যে আইয়ামে জাহেলিয়াতকে আল্লাহর শেষ রসুল ন্যায় সত্য দিয়ে, সেই আইয়ামে জাহেলিয়াতের বর্বর মানুষগুলোকে তিনি সোনার মানুষে পরিণত করেছিলেন। যে আইয়ামে জাহেলিয়াতের বর্ণনা শুনে এখনো মানুষ আতঙ্কিত হয়ে উঠে। সেই সময়ের অশভ্র মানুষগুলোকে আল্লাহর শেষ রসুল এমন মানুষ হিসাবে গড়ে তুলেছিলেন যে, কেউ খেয়ে আছে না খেয়ে আছে তা দেখার জন্য পথে পথে ঘুরে বেড়াতেন, কেউ কোন কিছু কুড়িয়ে পেলে তা যতক্ষণ না যার-তার কাছে ফিরিয়ে দিতে পারছে ততক্ষণ বিশ্রাম নিতেন না। প্রতিটি মানুষ যেন অন্যের জন্য বেঁচে থাকার শপথ নিয়েছিল এবং সেই মহাসত্যকে তারা পৃথিবীর সর্বপ্রান্তে ছড়িয়ে দিতে, বাড়ি-ঘর, স্ত্রী-পুত্র-পরিজন সবাইকে ছেড়ে বেরিয়ে পরেছিল পৃথিবীর বুকে। পরিণামে পৃথিবীর অনেক স্থানে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে সুবিচার শান্তি নিরাপত্তার অনাবিল আনন্দ মানুষের মাঝে।
.
আমরা সেই আল্লাহর প্রেরিত মহাসত্যকে আপনাদের সামনে তুলে ধরেছি, আমরা নতুন করে কিছুই আবিস্কার করিনি আর না আমাদের কোন কিছু আবিস্কার করার প্রয়োজন আছে বলে আমরা মনে করি, তবে হ্যাঁ আমরা একটা শান্তিপূর্ণ পৃথিবী আবিস্কার করার স্বপ্ন প্রতিক্ষণেই দেখি। আর আমরা সেই শান্তিপূর্ণ পৃথিবী যতদিন না আবিস্কার করতে পারছি ততদিন আমরা বিশ্রাম নিবো না।

Saturday, 29 December 2018

কৃপা

সব স্থানে তোমার চিহৃ
তোমার গুণগান,
অযত্নে হয়তো করেছি তোমার
কিছুটা অসম্মান।
.
একটা ভুল মুছে দিও তুমি
করে মায়া-দান
তোমার তরে ফরিয়াদ রবে
হে মেহেরবান।
.
তোমার কথার গভীরতায়
সত্য ফরমান,
তোমার অদৃশ্য প্রতিচ্ছবি
নীল আসমান।
.
আঁখি তোমার সৃষ্টি সম
আমার মনের প্রিয়তম
তোমার রচা সব কিছুতে
প্রভু আমি বর্তমান।

Thursday, 27 December 2018

অপবাদ


তুমি ছাড়া জীবনটা যাবে কেটে
নির্জনে একলা হেঁটে
আমি বোধহয় তোমার জন্য নয়
আমার এমনটা বোধ হয়।
.
তোমার ভালোবাসার শত চিহ্ন
আমার হৃদয়ে মিশে,
তোমার চুপিসারে আমায় দেখা
মেসেঞ্জারে হেসে-শেষ।
.
লুকিয়ে লুকিয়ে তুমি ও দেখো
আমায়--- দৃষ্টি আড়ালে,
আমিও তোমায় দেখি আনমনে
মেসেঞ্জারে চোখটা হাড়ালে।
.
এভাবেই হয়তো যাবে দিন রাত
সমতটে শূন্য রবে দুটি'হাত
প্রভাতের ওই নব সূর্যের আলোয়
অনুভবেই প্রাপ্তি হবে সাধ।
.
কত বসন্ত কত হেমন্ত শ্রাবণ
চলে গেল তুমিবিনা,
হৃদয়ের মন্দিরে দেবতা বলে
আমায় হৃদয়হীনা।

Wednesday, 26 December 2018

অনুরাগিণী


আমার মনে হয় তুমি অজান্তে ভ্রান্ত পথে পা বাড়িয়েছো, তুমি অনেক বোধ সম্পূর্ণ একজন মানুষ(মেয়ে) আমি সেটা অবিশ্বাস অস্বীকার করছি না আর কখনো করিনি। তুমি সচেতন ও যে কোনো বিষয়ে সঠিক নির্ণয় করতে সক্ষম, আমি সেটা মানছি। কিন্তু মানুষ যখন একা থাকে অভিমানে অযত্নে সে তার উত্তমত্ব ক্ষয়ে ফেলে। এমনটা কোনো ব্যাক্তির অভিশাপে হয় না, এমনটা হয়, মানুষের অস্পষ্ট কথা বা অস্পষ্ট ব্যবহার নিজের অবস্থান অনুযায়ী অনুভব করার ফলে। আমার এমনটা মনে হয়।
.
আমি এক মুহুর্তের জন্যেও তোমাকে খারাপ বা মন্দ ভাবিনি, এটা হয়তো তুমিও বিশ্বাস করো, আমার বিশ্বাস। যদি আমার বিশ্বাস ভুল হয়ে থাকে- তবে। আমার একটি অনুরোধ তোমার কাছে। অদৃশ্য অসত্য ভাবনায় ডুবে তুমি তোমার সম্মান নষ্ট করো না...প্লিজ। তুমি আমার চোখে আমার হৃদয়ে সব সময় দেবী ছিলে আর আজীবন ই রবে। এ সম্মান কভু নষ্ট হওয়ার নয়।

Saturday, 22 December 2018

বিভ্রম

‌দে‌হের ভিতর প্রা‌ণের বসত
‌যেথায় থা‌কো তু‌মি
ভা‌লোবাসার জল তর‌ঙ্গে
‌ভেজাই অনুভূ‌তি।

নষ্ট কু‌টিল মানুষ আ‌মি
মুক্ত বি‌বেক নেই
‌গোপন প্রে‌মের দ্বিধায় ম‌জি
জট‌গোল‌কে ধেই ।

চন্দ্রহারা অন্ধকা‌রে
‌তোমার সিঁ‌থি হে‌রি,
‌যে‌নো, মৃত গা‌ছের শা‌খে খুঁ‌জি
সবুজ পাতার কুঁ‌ড়ি।

Sunday, 16 December 2018

বাংলাদেশ

আমার দেশ মায়ায়'ভরা
ছায়ায়'ভরা মাটি,
আমরা মানুষ যে পথেহাঁটি
সে পথ পরিপাটি।
.
আমার দেশের গাছে গাছে
পাখির কলতান,
আমার দেশের মানুষের মুখে
দেশপ্রেমের গান।
.
আমার দেশে নতুন বেশে
ঋতু হয় পরিবর্তন,
আমার দেশে দিন শেষে
হয় জোনাকির আবর্তন।
.
আমার দেশে ভালোবেসে
মানুষ হয় শুদ্ধ
আমার দেশে মানুষ হেসে হেসে
অন্যায় করে রুদ্ধ।

Thursday, 13 December 2018

সমাহিত

 

বেলা অবেলায় কে তুমি হেলায়
নাচগো অলস নয়নে
অদৃশ্য কার গাঁথি কথা হার
ছন্দহারা শব্দ চয়নে।
.
যেখানেই যাই মায়াবী ছলনায়
ঘুরেছি মনের আঙ্গিনায়
দেখা নেই কভু আবেশে তবু
জানিনা কোন ভাবনায়। 
নীড় হারা আশা খুঁজে মরে ভাষা
উদাসী মাতাল ভুবনে। 
.
সৌন্দর্য নাই মন্দরা গায়
শব্দরা লুটিয়ে ধূলায়
জোনাকি মন ছাড়িলনা বন
পাখিরা ফিরিলনা কুলায়। 
নিভু নিভু তারা রাত মেঘে ঘেরা
নিদ্রা হারা শয়নে।

হাতড়ায়

প্রশ্নরা আজ বড্ড অসহায়
স্মৃতিরা বেদনায় নীল
মেঘলা আকাশে কান্নার রং
উড়েনা শুভ্র গাংচিল।

সুখের নদীতে অভিমানের খেয়া
অবেলায় চন্দ্রগ্রহণ
বিষন্নতার ঠোঁট ছুঁয়ে মাতাল লগন
শান্তির মিছিলে প্রহসন।

অবুঝ আবদার,হাসির খুনঁসুটি
মাথা তুলে দাঁড়ায়
মৌনতার চাদরে ঢাকা নীরব দহন
বুকের বা'পাশে হাতড়ায়।

হিমঋতু


কুয়াশাচ্ছন্ন মেঠোপথ
ঘাসে শিশির বিন্দুকণা,
মিষ্টি রোদের ঝলকানিতে
প্রাণমন আনমনা।

হেমন্তের মৃদু হাওয়া যেন
দোলে যায়
মনপ্রাণ,
নীরবে নিভৃতে কেঁদে যায়
আকাশ সারাক্ষণ।

ভূমি যেন আজীবনের তৃষ্ণা মেটায়
কুয়াশার পরশে,
চম্পা চামেলী যেন সতেজ হয়ে উঠে
হেমন্তের বাতাসে।


শব্দহীন নির্জন রাতে-পথে
পথিকের রয়’না আনাগোনা
নিস্তব্ধ হয়ে থাকে মেঠোপথ
পথিকের অন্তরে ভয়’হানা।

Tuesday, 4 December 2018

কথা

এ মন গহনে অনল দহনে
পুড়ছে প্রেমের ফুল।
জ্বলে জ্বলে হায় পুড়ে হলো ছাঁই
কোথায় হারালো কূল।
.
এ ভাঙা মনন বিরহ কানন
ফোটেনা প্রেমের ফুল।
কেঁদে কেঁদে তাই রজনী পোহায়
সেধেছি সকল ভুল।
.
এ রক্ত অক্ষরে অলীক স্বাক্ষরে
লিখছি তারই নাম।
হোক তবু ভুল বেঁধে প্রেমো কূল
জানাবো তারেই প্রণাম।
.
এ ক্ষণ আঘাত প্রেমের ব্যাঘাত
ঘুচবে সকল ব্যথা।
এ চোখ সায়রে গহীন আঁধারে
তুলবো সুখের কথা।

অনিচ্ছুক

কতনিশি হয়ে যায় ভোর
তার অপেক্ষায় বুকের ভেতর।
উড়ে যায় পাখি দূরে যায় চাঁদ
বেদনায় কাটে আমার প্রতিটা রাত।
.
হাওয়ারা কি যে বলে যায়
বুজি না তার ভাষা,
আমার মনের বন্ধ’ঘরে শুধু
তার যাওয়া আসা
.
আকাশে মেঘ উড়ে যায়
ঝড়ে পড়ে না মাটিতে,
কাদায় নয় আমি বেদনা নিয়ে
আর পারি না পথ হাঁটিতে।
.
আমার হাতে কতদিন নেই তার হাত
অপূর্ণতায় আশে যায় নিত্য প্রভাত।
.
নয়ন যেন আজকাল দেখতে নাহি চায়
পৃথিবীর কোন রূপ,
আমি ছেলেটার ছোট একটা বুকের ভেতর
কষ্ট জমা হয়েছে খুব।
আমি যে আজ বাঁচতে অনিচ্ছুক।

Sunday, 2 December 2018

কবর

কিছু ধূলোয় রেখে যাবো
কিছু গোপন খবর
সযত্নে পড়ে নিও
আমার মৃত্যূর পর।

কিছু বিধি ছিঁড়ে দিলে
তুমি কি করে দেবে পর?
তবু শেষ কথা রেখো আমার,
জানি আমি হিঁদুর ঘর।


আগুনে আমার আমৃত্যূ ভয়
পোড়ার জ্বালায় আসে জ্বর,
মৃত্যূর পর তুমি দিও না দাহ ,
একমুঠো মাটি দিও,
আমায় দিও গো কবর।

তুমি

তুমি অভিমানী তুমি প্রেমময়
তুমি দুর্গা তুমি চন্দ্র তুমি অক্ষয়,
তুমি পাহাড় পটভূমি তুমি হিমালয়
তুমি আকাশ তুমি বাতাস তুমি বিশ্বময়।
.
তুমি সমুদ্রের বুকে বয়ে চলা নিরবধি-জল
তুমি তৃষ্ণা মিটায়ে জাগিয়ে তোল- বল
তুমি গভীর তুমি অতল তুমি নির্মল।
.
তুমি সবুজ ঘাসের পাতায় পাতায়
শিশির বিন্দুকণা
তুমি হেমন্তের কুয়াশাচ্ছন্ন মেঠোপথে
শান্ত রোদ্র'ছায়া।
.
তুমি উড়ে যাওয়া পাখির কণ্ঠে
মৃদু সুরে গেয়ে যাওয়া গান
তুমি হেমন্তের নতুন ফুলে জেগে উঠা
মৌমাছি প্রাণ।
তুমি সকালের সতেজ ফুলে ছড়ানো ঘ্রাণ।

শেষ বলতে কিছু নেই

আমি ধরা খেয়ে আসা মানুষ। ঠকেছি, হারিয়েছি, একসাথে পথ হাটতে হাটতে আঙুল ছেড়ে দিয়ে মানুষকে চলে যেতে দেখেছি। আমি দিনের পর দিন, রাতের পর রাত একই মানুষের কন্ঠস্বর শুনে সময় কাটিয়েছি। কারো চোখের দিকে তাকিয়ে দেখেছি স্বর্গ! আমি দেখেছি হৃদয়ের উপাসনালয়ে যাকে দেবী বানিয়ে পূজা করা হয়, সেই দেবীই একসময় উপাসনালয় ভেঙে বেরিয়ে যায়। মানুষের জীবন থেকে মানুষের চলে যাওয়ার দৃশ্য দেখতে দেখতে বুঝে গেছি, সব মানুষ জীবনে রয়ে যাওয়ার জন্য আসেনা। যার ঘোলাটে চশমার কাঁচ শার্টের নিচের অংশ দিয়ে মুছে দিয়েছি বহুবার, তাকে দেখেছি অন্য কারো জন্য কান্না করে চশমার কাঁচকে আবছা করে ফেলেছে।

এই যে আমি একবার ঠকে গেছি বলে আরেকবার কাউকে বিশ্বাস করবো না, এটা জীবন নয়। বিশ্বাস ভাঙ্গবে বলে বারবার বিশ্বাস করে যাওয়াটাই জীবন। জীবনে সব মানুষ যেমন রয়ে যাওয়ার জন্য আসে না, তমনি সব মানুষ চলে যাওয়ার জন্যও আসে না। কেউ কেউ লেগে থাকে। যেভাবে মাটি আকড়ে দাঁড়িয়ে থাকে গাছ, সেভাবে লেগে থাকে।

এই যে এখন ভাংচূর টাইপ প্রেম ঢুকে আছে বুকে, একদিন হয়তো থাকবে না। ভ্যানের উপর থেকে সবজি কেনার মানুষ তো মাঝে মাঝে বদলে যায়। এই যে আজকে তনু'র সাথে আছি, একদিন হয়তো তনু চলে যাবে বহমান স্রোতের মতন দূরে। এত'টা দূরে, যতটা দূরে গেলে মানুষকে দূরবীক্ষন যন্ত্র দিয়েও খুঁজে পাওয়া যায় না।

তনু থাকবে'না, এটা একটা অল্টারনেটিভ চিন্তা। হয়তো তনু রয়ে যাবে, আমি থাকবো'না। আমাদের দুজনের যেকেউই হারাতে পারে। আবার রয়ে যেতে পারি ডাইনিং টেবিলে, বারান্দার চেয়ারে, কফির মগে, পাশাপাশি বালিশে, সন্ধ্যার নালিশে।

মানুষটা থাকবে'না, এটা ভেবে ভালোবাসা যায় না। 
যেখানে ইনসিকিউরিটি বাসা বেঁধে ফেলে, 
সেখানে প্রেম প্রবেশ করতে বাঁধাগ্রস্ত হয়।

একবার ঠকে গিয়ে থেমে না গিয়ে হাটতে হয়, দৌড়াতে হয়, চলতে হয় মাইলের পর মাইল। একজনের পর অন্যজন আসে না, এই বিশ্বাসটাই আমাদের থামিয়ে রাখে। ভুল মানুষ চলে যায়, সঠিক মানুষ সঠিক সময়ে ঠিকই চলে আসে। মাঝে মাঝে এমন হয় যে, প্রথম প্রেম জীবনে আসে চতুর্থ প্রেমের সময়ে।

ভালোবাসা হারানোর পরও নতুন করে ভালোবাসতে শিখতে হয়।
ভালোবাসা থামিয়ে দিতে নেই। 
থামিয়ে দিতে হয় ঘৃণা, অযত্ন, অবহেলা ও ক্রোধ।

Friday, 23 November 2018

মোচন


এসেছে মহাসত্য
যা ছুটে বেড়াচ্ছে নিত্যদিন,
আমরা বেপরোয়া বাধাহীন

এসেছি করতে দিন রঙিন।
.
অন্যায় মুছে অত্যাচার ঘুচে
সোনালী দিন আনতে
ছুটি মোরা পাহাড় সমতটে
ছুটি মোরা দেশের সব প্রান্তে।
.
জানতে মহাসত্য তোমরা
খোল দু'আঁখি
মোরা আছি সকল পথে
করছি ডাকাডাকি।
.
মোরা নই কারো হাতে বন্দী
করেছি সত্যে সন্ধি
মুক্ত করতে নারীজাতিকে
যারা উন্নতির দৃষ্টিনন্দী।
.
অবহেলিত মানুষ যে জন
সে জন আসো কাছে
মোরা এসেছি তোমাদের তরে

সকল দুঃখ মোচনে।
.
নারী তুমি দুর্বল নও বোন
নও ঘরের কীট
তোমার জন্যেও আছে যে
সত্য ধর্মে সুবিচার ভিত।

Thursday, 22 November 2018

নিখোঁজ


আমি ছেলেটা ভালো নই
সদাই প্রেমের কথা কই
তোমার ভাবনায় ডুবে রই
তা তুমি জানো সই।
.
কেউ না বোঝে আমার ব্যথা
আমার মনের আকুলতা,
আমি যে তোমার স্মৃতিতে

সারাক্ষণ ডুবে রই।
.
কেউ বলে আমি পাগল ছেলে
কেউ বা বলে বাজে
আমার মন রয় তোমার কাছে
মন বসে না কাজে।
.
তোমার জন্য লিখব বলে
পড়ে যাই কিছু বই
আজো তুমি বলনি আমায়
আমি তোমার কি হই।
.
সবাই বলে সে কে রে ছেলে
কার জন্য এত ছটফটানি
আমি চুপ হয়ে শুনি সদাই
তাহাদের ওই বকবকানি।
.
উত্তর আমার নেই যে জানা
তোমার প্রেমে পড়তে মানা
তা তুমি বলে দেও রোজ
জেনে রেখো তনু তুমি
এভাবে না বাঁচব আমি
হঠাৎ হয়ে যাব আমি ছেলেটা নিখোঁজ।

মুখপোড়া


তোমার ঠিকানায় একটা চিঠি লিখেছি
পাঠিয়ে দিব কাল,
এ চিঠিতে ভালোভাবে লিখেছি প্রিয়
আমার হালচাল।
.
তোমার থেকে দূরে এসে আমি
নেই যে আজ ভালো,
চারপাশে ছড়ানো সূর্য আলো
তবু হৃদয় আমার কালো।
.
খেতে ভালো লাগে না ভুলে যাই
করি না ঠিক সময় স্লান,
ঠিক সময় ঘুম আসে চোখে
এ নয় আমার অভিমান।
এ তোমার দূরত্বের নিদান।
.
হাতের ফোনটা অনেক ভারি লাগে
তাই দূরে রাখি,
তোমার ফোন আসে না কতদিন হোল
তাই আমি আঁধারে মুখ ঢাকি।

Friday, 16 November 2018

হারায়


হলুদ শাড়ি পরে ঐ যে
সূর্যমুখী কন্যা
মন বাগানে বইছে আহা,
হলুদ আলোর বন্যা।
সূর্যমুখী সূর্যকন্যা
উঁচু সীমায় দাঁড়ায়
তারে দেখে খুশিতে মন,
দূরের হাওয়ায় হারায়।

নীতি

তুমি কাছে যাকে পাও তাকে কাছে না চাও
দূরে যার ঠিকানা স্মৃতি তার হাতরাও।
অদ্ভুত স্বভাব তোমার খেয়ালী বাসনা
দূরে যার বাস যেন খাটি সে সোনা।
কাছে থেকে নিভৃতে যে করে তোমার গতি
তার কথা বিরুদ্ধ আচরণই যে তোমার গুপ্ত নীতি।

নিত্যতা


সত্য বিষয়টি বড়ই আপক্ষিক
বাতাসে যখন তোমার চুল ওড়ে- তুমি বল প্রকৃতি
বাতাসে যখন রং মেশে- চুল হয় কি প্রেম?
সত্য তবে কোনটি প্রকৃতি না প্রেম? 


মিথ্যা বিষয়টি বড়ই আপোষহীন
আমাকে যখন তোমার মনে ধরে- তুমি বল রঙ
তোমাকে যখন আমার মনে ধরে- তখন বুঝি ঢঙ?
মিথ্যা তবে কি- ঢঙ না রঙ?

সত্য যেন শত আবরণে ঠাসা
সত্যি করে বলা কথাটি যখন বলা সত্যি যায়
মিথ্যে কথাটি শুনতে মনের, সত্য সাধ হয়।
আবরণ তবে কিসের সত্যের না মিথ্যের?

মিথ্যা যেন আবরণহীন
মিথ্যের কাছে নেই আশা তাই মিথ্যেটাই ধ্রুবসত্য
সত্যের ন্যায় মিথ্যার নেই অজুহাত শত নিত্য।

সত্য যেনো এক আদলে একটিই মহাবীর
মিথ্যা যেনো বহু আদলে শিশু মত গতি ধীর।

মিথ্যার সত্য বড়ই বেপর্দা, খোলষহীন মুক্ত সাপ
সত্যের মিথ্যা প্রতি পদে পদে গড়ে কতশত ধাপ।

না না বলিনিতো আমার সত্যেই তোমার সত্য হবে
তোমার সত্যের মধ্যমনিতে যে মিথ্যা আমারই রবে।

সত্য মিথ্যের এই খেলাটি বড়ই মিথ্যা সত্যে
তাই বলি কি সত্য মিথ্যের যাচাই করোনা বৃত্তে।

Tuesday, 13 November 2018

মৃগতৃষ্ণা


দুটি চোখ অন্ধ হয় বারবার
কারও অভিশাপে নয়,
তোমার রুপের ঝলকানিতে
বারবার মরে আবারও
বাঁচতে ইচ্ছে করে
তোমার হাতটি ধরে।

তোমার ঐ উষ্ণ শ্বাসে
আমার শীতল শ্বাস মিলে
যে গভীর মায়াজাল বুনে- অগোচরে
তা কি কখনও টের পেতে?

ধর, আরও একটা যুগ পরে
ঠিক এমনি করে দূর হতে
যদি আমার ধ্বনি ভেসে যায় বাতাসে
তোমার কাছে,তুমি কি বুঝবে?
নাকি চোখ বুজে অন্য কারও গভীর শ্বাসে
নিজের শ্বাস বিকিয়ে দিবে?

লক্ষ যোজন দূরে থেকে
বিনা তারে আমার ক্রন্দন যদি
তোমার কানে বাজে
তবে সেটাকেও কি তুমি মিছে ভাববে?

নিদ্রাহীন

ঘুমহীন এই রাতে
আলো আর আঁধারের মাঝে
দুচোখে তন্দ্রায় দৃষ্টিত্রুটি আঁকে
কিভাবে আশারা যাবে স্বপ্নের পথে ৷

আমি একা আর পাশে শূণ্যতা
এক প্রশস্ত বিছানায় জেগে জেগে কল্পনা
চারিপাশ নিস্তব্ধতায়, শব্দ সময়ের প্রতিধ্বনি
নিয়তই পাড়িদেয় পূর্ণ স্পন্দনে, যে পথ কেন্দ্রমুখী
আলোক রেখা সমূহ চলছে, অনুপ্রস্থে
যদি আমি পারতাম যেতে এই অনুরুপে
যত পথ যত দূরত্ব সব শূন্য করে ৷

কখনো কখনো এই পথ এনেদেয় সম্ভাব্যতা
এথা আর হেথা যত ব্যবধান, আপেক্ষিকতা ৷
মনেহয় একদিন আবেগগুলো যাবে মুছে
এই মহা বিশ্ব কেবলই একটি কোয়ান্টাম ক্ষেত্রে?
অনুভূতি, ভালোবাসা অধীরতায় প্রতীয়মান
মনে হয় এই পথ পাড়িতে যাবে জীবনমান ৷

ভোরবেলা


জানিস তনু
রোজকার রুটিনে অনেক পরিবর্তন এসেছে
তবুও ভোরগুলো শুরু হয় তোর কথা ভেবে
আর গোধূলী বেলা পর্যন্ত চোখ মেলা থাকে
তোর ফেরার পথ চেয়ে ,
নির্লিপ্ত অপেক্ষাতে।
মুঠোফোন হাতে চোখ মেলেই খুঁজি তোকে
কাছে না পেলেই চোখ ভিজে যায়,
তা দিয়েই আমার দুয়ার ধুয়ে রাখি,
পাশে তোর কষ্টগুলি
আগুন হয়ে উঠে যদি।
এভাবেই কেটে যায় নিত্যকার এক একটা প্রহর
সপ্তাহ, মাস বছর যুগ-পেরিয়ে
এভাবেই হয়ত কেটে যাবে একটা জীবন।

হাহাকার


দেশের মধ্যে যখন মানুষের দ্বন্দ্ব চলে, মানুষ যখন স্বার্থের জন্য মিথ্যা কথা বলে, অন্যায় পথে চলে, তখন সে দেশের সে সমাজের মানুষের ধর্ম বলতে কিছু থাকে না। মনে রাখবেন ধর্ম একতার নাম উন্নতির নাম সম্মিলিতভাবে বসবাস করার নাম। আর মানুষ যখনি ঐক্য নষ্ট করেছে তখনি ধর্ম নির্বাসনে গিয়েছে যার ফলে সৃষ্টি হয়েছে সমাজে দেশে অশান্তি। বৃক্ষ থেকে যেভাবে ফলের জন্ম হয় আর মাটি থেকে অসংখ্য খাদ্যের উৎপন্ন, ঠিক তেমনভাবে মানুষের সম্মিলিতভাবে বসবাস করার মাঝেই সৃষ্টি হয় সুন্দর পৃথিবী আর সমাজের নিরাপদ চিত্র। মানুষেই মানুষের উন্নতি ও অবনতির দ্বার, মানুষ যখনি আলাদা হয়েছে তখনি সৃষ্টি হয়েছে মানুষের মধ্যে সংহার সৃষ্টি হয়েছে অশান্তি সৃষ্টি হয়েছে হাহাকার।

নারী সম্মেলন ২০১৮


সকল বেড়াজাল ছিন্ন করে
মানবজাতির শান্তির তরে
আমরা হয়েছি বিদ্রোহী বীর
সকল অন্যায় আত্যাচার মিথ্যাচার ও
নারীর অধিকার হরণ কারীদের বিনাশ করতে
আমরা হয়েছি অস্থির “আমরা চির উন্নত মম শির”।
.
আমরা জেগেছি জাগাতে জাতি
মিথ্যা প্রথার সকল বাতি
করতে সমূলে শেষ
ত্যাগ করেছি সদাই রেস্ট 

ফিরিয়ে আনতে ন্যায় পরিবেশ।
.
যারা নারীর হাতে ঝুড়ি তুলেছে
মাথার উপরে ইট
যাদের জীবন সত্যহীনতায়
হয়েছে সমাজে কীট।
তাদের জীবনে সত্য ছড়াতে
আমরা হয়েছি উদগ্রীব।

অমানুষ

আমার এই দু’চোখ দিয়ে
অনেক দেখেছি নারীর আর্তনাদ,
অনেক দেখেছি অমানুষকে
যারা নারীর গায়ে দেয় হাত।

দেখেছি আমি মায়ে অশ্রু
অঝোর ধারায় বয়ে চলা,
দেখেছি আমি হীনদের
মনুষ্যত্বহীনভাবে কথা বলা। 


আমি হয়তো বহুবার এসব দেখে 

গিয়েছি মরে
দেহে শুধু প্রাণটাই আছে
হৃদয়ে জমেছে কয়লা যা জ্বলছে ভীষণভাবে।

নির্ভুল

একদিন হয়তো আমি উন্নত হব
তোমার মতো হয়তো রব,
রবে হয়তো আমার অনেক কিছু
অনেকে হয়তো হাটবে আমার পিছু।
.
তবুও আমি ভুলে যাব এ অতীতের কথা
ভুলে যাব সব- এ অতীতের ব্যথা
আমি তো শুধু একজন মানুষ হব
মানুষের কল্যাণে কথা কব।
.
আমার থাকবে না কোনো অহংকার
আমার তো ওই জীবন হবে
তোমার অবহেলার অলংকার
যা তুমি করছো আমার সাথে।
.
হয়তো এ রাত কেটে যাবে
আসবে সোনালী আলো
হয়তো তুমি ঘুম থেকে উঠে
থাকবে অনেক ভালো।
.
আমার ভালোটা লুকিয়ে গেছে
অজানা নিরুদ্দেশে
আমি হয়তো ভুল করেছি
তোমায় ভালোবেসে।

পুরোটাই


দু'জন দু'দিকে নির্জনে বসে
হয়তো দেখবো ভোর,
হয়তো তুমি ভাবছ আমায়
কতটা আমি তোর।
আজ বলে দিচ্ছি তোমায়
তুমি পুরোটাই মোর।

অলীক কল্পনা

ছোট্ট এক জীবন আমার
সুখের স্বপ্নে গাঁথা
অনেক বন্ধুর পথ পেরিয়ে
স্বপ্ন কাব্য আঁকা।
রঙিন রঙিন প্রজাপতি
উড়ে বেড়ায় মনে
দক্ষিণ দুয়ার খুলে রাখি
তাহার পথের পানে।

কমতি

পাশে থেকেও পাশে নেই
আছি লক্ষ যোজন দূরে,
দূরে থেকেও দূরে নও তুমি
আছো হৃদয় জুড়ে।

মন আনচান কি যে জ্বালাতন
সারাক্ষণ বসে করি আলাপন,
সকাল সন্ধ্যা আশায় থাকি
আসবে বুঝি তোমার নিমন্ত্রণ।

যে পাওয়ায় যায় কেটে মোহ
বুকের মাঝে জাগে না শিহরন,
সেই ভালো যদি সে না হয় আপন
অতীত কে ভালবেসে করি চুম্বন।

ধর্ম কোনো পণ্য নয়

আমাদের সমাজে বহু পন্থায় ধর্মকে পুঁজি করে স্বার্থ হাসিল করা হয়। নামাজ পড়িয়ে, কোর’আন খতম দিয়ে, মিলাদ পড়িয়ে, জানাজা পড়িয়ে, খোতবা-ওয়াজ করে, পরকালে মুক্তিদানের জন্য জান্নাতের ওসিলা সেজে কথিত আলেম, মোল্লা-মাওলানারা অর্থ উপার্জন করে। আবার অনেকে ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে, মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিকে কাজে লাগিয়ে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের মোকাবেলা করে। এই সবগুলোই ধর্মব্যবসা।
.
ধর্মের কাজের কোনো পার্থিব বিনিময় হয় না, এর বিনিময় বা পুরস্কার কেবল আল্লাহর কাছেই রয়েছে। কিন্তু যখনই তার মূল্য নির্ধারণ করা হয় বা স্বার্থের লোভে ধর্মের আশ্রয় গ্রহণ করা হয় তখন আর সেটা ধর্মকর্ম থাকে না, সেটা হয়ে যায় ধর্মব্যবসা, যা সকল ধর্মে নিষিদ্ধ।
.
মানুষের ইতিহাস সত্য-মিথ্যা, ন্যায়-অন্যায়ের চিরন্তন দ্বন্দ্বের ইতিহাস। এই দ্বন্দ্বে কখনও কখনও সত্য জয়ী হয়েছে আবার কখনও হয়েছে বিপর্যস্ত। সকল সত্যের উৎস হচ্ছেন মহান আল্লাহ, তাঁর পক্ষ থেকেই মানুষ যুগে যুগে সত্য লাভ করেছে।
.
আদম (আ:) থেকে শুরু করে আখেরী নবী মোহাম্মদ (দ:) পর্যন্ত পৃথিবীর প্রতিটি জনপদে, প্রতিটি সমাজে আল্লাহ সত্যদীনসহ তাঁর নবী, রসুল, অবতার প্রেরণ করেছেন। তাদের মাধ্যমেই সত্য এসেছে, সত্য জয়ী হয়েছে, সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
.
কিন্তু এই মহামানবদের অন্তর্ধানের কিছুকাল পর থেকে ক্রমেই তাদের আনিত দীনে বিকৃতি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। মানুষের মধ্যে স্বার্থচিন্তার বিস্তার ঘটেছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই প্রাথমিক বিকৃতি এসেছে নেতৃত্ব পর্যায়ে। লোভ-লালসা, অহংকার, ভোগ-বিলাসিতার মোহ শাসকদেরকে খুব সহজেই অধর্মের পথে চালিত করেছে।
.
কিন্তু অধর্মের শরণাগত হলেও শাসকরা এটা ভালো করেই জানত যে, সমাজ তাদের অধর্ম মানবে না। যে কোনো সময় ধর্মপ্রাণ সাধারণ জনতা অধর্মের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে পারে। এমন সময় শাসকদের প্রয়োজন পড়েছে এমন একটি ধর্মজ্ঞ শ্রেণির যারা শাসকদের পক্ষ থেকে জনগণের কাছে জবাবদিহি করবে, শাসকের অন্যায় কর্মকে ধর্মের আলোকে ফতোয়া দিয়ে সঠিক প্রমাণ করবে, অর্থাৎ এক প্রকার দালাল শ্রেণির। অবশ্যই ধর্মের ব্যাপারে তাদের পাণ্ডিত্য থাকতে হবে সর্বজনবিদিত। কারণ, সমাজ কেবল তার কথাই বিশ্বাস করবে, শুনবে ও মানবে যারা ধর্মের জ্ঞান রাখে, ধর্মীয় কেতাব যাদের মুখস্থ।
.
ইতিহাস এটাই বলছে যে, এই দালাল শ্রেণি খুঁজে বের করতে অধার্মিক শাসকদের তেমন বেগ পেতে হয় নি। কারণ আগেই বলে এসেছি তখন মানুষের মধ্যে একটু-আধটু স্বার্থচিন্তা প্রবেশ করে ফেলেছে। আর যেখানে স্বার্থের চিন্তা থাকে, সেখানে অধর্মের পথে কোনো বাধাই টেকে না, শাসকের বিপুল ধনরাশি, মান-সম্মান আর ক্ষমতার প্রলোভনের সামনে তো নয়ই। এভাবেই প্রায় সকল ধর্মের অনুসারীদের মধ্য হতে ধর্মব্যবসায়ী শ্রেণির উৎপত্তি ঘটেছে, ধর্মব্যবসা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করেছে।

Tuesday, 2 October 2018

তুমিই আমার

তুমিই আমার এ জীবনেকূলহীনা এক নদী
দুঃখ কষ্ট মাথায় নিয়ে
চলছি নিরবধি।
.
তুমিই আমার এ জীবনে
মেঘের জলধারা
মনের ঘরে অন্ধকারে
জ্বালাও শুকতারা।
.
তুমিই আমার এ জীবনে
পূর্ণিমার ঐ চাঁদ
বিপদ কালে কাছে টানো
ভুলে অপরাধ।
.
তুমিই আমার এ জীবনে
বাঁচার ক্ষীণ আলো
ভোর এনে দাও নতুন করে
ঘুচিয়ে ঘন কালো।

-
#সময়েরকথা

মেয়েটা


মেয়েটার গান ছিল মনেপ্রানে
স্নিগ্ধ সকাল, বিষন্ন প্রান
বিজন দুপুর, মেঘলা বিকেল

গুনগুনিয়ে সুরে দেয় সে-টান।
.
সবার মাঝে বসে থেকেও
অন্যমনস্ক এক ধ্যানে
যায় সে ডুবে কোন গভীরে
কেউ বুঝি তা জানে।
.
কেমন এক দেয়াল টেনে রাখে
সে রহস্যের বেড়াজালে,
খোঁজে বেঁচে থাকার মানে
চেনা জানার অন্তরালে।

-
#সময়েরকথা

Wednesday, 26 September 2018

যদি দেখা হয়


চলতি পথে যদি দেখা হয়
আনমনে হয়ে যায় দৃষ্টি বিনিময়
তুমি কি এড়িয়ে এগুবে গন্তব্যপানে
নাকি শুধাবে এসে" কেমন আছি
তোমায় ছেড়ে কেমনে বাঁচি ?


কবিতা


তোমায় নিয়ে এমন একটি কবিতা লিখতে চাই
যে কবিতাটি লিখার পরে আমি সেচ্ছায় মরে যেতে দ্বিধা করবো না।
অথবা যে কবিতাটি আমাকে হাজার বছর বাঁচিয়ে রাখবে মৃত্যুর পরেও।
বেঁচে থাকবে তার-প্রতিটি অক্ষর,
প্রতিটি শব্দ, ছন্দ ও তাল,
বেঁচে থাকবে কবিতাটি,
বেঁচে থাকবে তুমিও অনন্তকাল!
.
সে কবিতাটির একটি নিরবিচ্ছিন্ন প্রাণ হবে,
পায়রার কণ্ঠে ঝলমলে উজ্জ্বল চঞ্চল মানুষ-
মানুষীর মতো প্রাণ,
ভালোবাসায় সিক্ত দুটি কপোত-কপতির স্বচ্ছ-
শিশিরের মতো প্রাণ,
মিলেমিশে একাকার একটি ভালোবাসার
কবিতার মতো গান!
সে প্রাণটাকে আমি পদ্ম দীঘির জলের তলে-
একটা ভ্রমরার প্রাণের ভেতর লুকিয়ে রেখেছি,
সেই ভ্রমরটাকে আবার জাদু-মন্ত্রের কৌশলে
একটা হীরের কৌটায় বন্দী রেখেছি।
কোন মানুষ তাকে ছুঁতে পারবে না-
সে প্রান অবিনশ্বর!
কেউ তার ঠিকানা জানবে না-
সে খবর শুধু জানো তুমি আর আমি।
.
ওই কবিতাটির মাঝে হবে অযুত নিযুত শব্দ,
অযুত নিযুত ছন্দ
তার ভেতর থেকে মিষ্টি দুটি শব্দ বেছে নেব
আমরা তার ভেতরে লুকিয়ে পড়বো অনন্ত কালের জন্য
সে একটি শব্দ হব “আমি” আরেকটি শব্দ হবে “তুমি”।
.
তোমার আর আমার মাঝে আর একটি শব্দও থাকবে
তার নাম “ভালোবাসা।
“ভালবাসা”“ভালবাসা”“ভালবাসা।

Tuesday, 25 September 2018

আমরা নির্ভয়


পৃথিবীটা হয়ে গেছে অনেক ছোট
অন্যায়ের কাছে আমরা নই যে নত
আমরা শত উঠেছি জেঙ্গে ঘূর্ণিবেগে
করতে মানুষকে সত্যের আলোয় উন্নত।
.
যত আছে দূষিত প্রাণী পৃথিবীর বুকে
সত্যের বচনে মারব তাদের ধুঁকে ধুৃঁকে
রুখে দিব আজ সমস্ত অন্যায়ের দ্বার
পৃথিবীর বুকে হবে শুধু সত্যের সমাচার।
.
শুদ্ধ সব প্রাণে অবাধ্য শয়তানের বিষ
সত্যের বীণায় করবই আমরা নিষ্কাশন
পরিশুদ্ধ করে পৃথিবীতে সব মানুষের প্রাণ
সবার অন্তরে করব আমরা সত্যের অধিষ্ঠান।
.
রাখব না মানুষের মাঝে কোন বিভাজন
না কোন হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান বা মোসলমান
সবাইকে সত্যের আলোয় আলোকিত করে
হব শুধু আমরা এক পিতামাতার সবাই সন্তান।
.
আমরা নবীন আমরা প্রবীণ আমরা সৈন্যদল
নই আমরা শয়তানের যান্ত্রিক শক্তিতে দুর্বল
আমরা মহান স্রষ্টার সাহায্যেই মহা সৈন্যবল
আল্লাহর সত্য প্রতিষ্ঠা করে আমরা অচিরে
সমস্ত অসত্য মিথ্যা ইবলিসকে করব দুর্বল।

Wednesday, 19 September 2018

সুখ


ঠিক সন্ধ্যে নামার মুখে
তাকাই তোমার ছবির পানে
আমার জীবনের সবটুকু সুখ
রাখা আছে যেন ঠিক ওখানে।

মেতে


মানুষের হাতে মানুষ লাঞ্ছিত
মানুষের জন্য আজ মানুষ বঞ্চিত
সুখ শান্তির অনাবিল আনন্দ থেকে
মানুষ আজ ন্যায়ে নয় অন্যায়ে মেতে।


ভালোবাসা

যে জীবন যত বেশি ভালবাসাময়, সে জীবন তত বেশি সমৃদ্ধ। শিশুদের বেড়ে ওঠার জন্য শুধু একটা সুন্দর ভালবাসাময় পরিবেশ তৈরি করুন। দেখবেন, তারা পুরো জগত সমৃদ্ধ করবে, তাদের সৃষ্টিশীলতার আঁচড়ে। শিশুদের এই সুন্দর জগৎ তৈরি করার প্রথম দায়িত্ব আমার, আপনার, সকলের। তাই আসুন আমাদের বৈষম্য পরিত্যাগ করে- আমরা ভালোবাসাময় একটি পৃথিবী নির্মাণ করি।

Monday, 10 September 2018

লজ্জিত


দুশ্চিন্তায় এক বৃদ্ধ পিতা
দৃষ্টি তার বহুদুরে
সৃষ্টি তার চোখের পাতায়

কাঁদছে ভীষণ অসহায় সুরে।
.
সকল মানুষের মন্দ কাজের ফল
সুন্দর সৃষ্টিকে আজ করেছে দুর্বল
স্বার্থের ছলে- নতুন পরাশক্তির বলে
সৃষ্টিকে আজ নিয়ে যাচ্ছে সকল মানুষ
মহাধ্বংসের কূলে।
.
ভুলে গেছ সকল মানুষ আজ
মনুষ্যত্বের মর্মকথা,
মানুষ হয়ে আজ মানুষকে মারছে
লাজহীন নির্মমভাবে দিচ্ছে ব্যথা।
.
ভীষণ ব্যথায় ব্যথিত আজ
সকল বৃদ্ধ পিতার বুক
কেমন করে দেখাবে তারা
মহান স্রষ্টাকে তাদের মুখ।

Wednesday, 5 September 2018

লাঞ্ছিত মানবতা


যে দিকেই চাই
মানুষ মানুষের হাতে লাঞ্ছিত
অপমানিত অবহেলিত,
এ ছাড়া পৃথিবীতে আজ
সম্প্রীতির কোন দৃশ্য-নাই।
.
ভাইয়ে ভাইয়ে আজ দ্বন্দ
সমাজের চারিপাশে ছড়ানো মন্দ
ভাইয়ের হাতে আজ বোন গুম-খুন
সকল ভাইয়ের গায়ে আজ চুনকালি।
.
ক্ষমতাশালী"রা আজ ধর্মহীন
ধর্মব্যবসায়ীদের হাতে স্বার্থের বীণ
এরা দুয়ে মিলে আমাদের আজ
পশ্চিমাদের কাছে করেছে ঋণী।
.
তোমরা মানুষকে আজ মনে করো
পথে পড়ে থাকা কীট,
স্রষ্টাহীন সভ্যতার ফাঁদেপড়ে
ভুলে গেছ তোমরা- আজ
তোমরা যে-স্রষ্টার উৎকৃষ্ট জীব।
.
মানবতা মনুষ্যত্ব তোমরা সবি
দিয়েছো কবেই বিসর্জন
বুঝ হওয়ার পড়ে নিত্যই করেছো
স্বার্থসিদ্ধির জন্য- অভিশাপ অর্জন।
.
বর্জন করনি স্বার্থের জন্য
অবিচার অনাচার অন্যায়
ন্যায়হীন আমাদের জীবনে
আজ শুধু আতঙ্ক রয়।
.
অসহায় ও ক্ষুধার্ত মানুষের অভিশাপ
এ অভিশাপ সকল স্বার্থপর মানুষের প্রতি
যারা করেছো ক্ষুদ্র-স্বার্থের জন্য মানুষের ক্ষতি
মনুষ্যের শ্রেষ্ঠ জ্যোতি করে নষ্ট
সে নষ্টের অংশীদার হয়েছে মানবজাতি
তার জন্য পৃথিবীতে আজ
সবার জীবনে-কষ্ট।
.
স্বার্থের জন্য নিত্যই তোমরা
মানুষকে করেছো নানা কাজে পিষ্ট
তোমরা যে আজ হয়েছো ভাই
কৃতকর্মে- মনুষ্যত্বহীন নিকৃষ্ট।
.
পুনরায় উৎকৃষ্ট হতে চাইলে
নিকৃষ্টতা স্বার্থপরতা ত্যাগ করে
হয়ে যাও সকল কাজে সত্যনিষ্ঠ
তবেই তোমরা পুনরায় হবে শ্রেষ্ঠ।

Tuesday, 4 September 2018

অসৎ কিছুতে কিছুই নেই


স্বার্থপর হলে আমি
পশু হয়ে যাবো
নিঃস্বার্থ থাকলে আমি,
সম্মানেই পাবো।
.
অসৎ পথে পা বাড়ালে
পাপী হয়ে যাবো
সৎ পথে থাকলে অটুট
স্মমান প্রাপ্তি হব।
.
মানুষের ক্ষতি করলে আমি
অমানুষ হয়ে যাবো,
মানুষের উপকার করলে আমি
একদিন উৎকৃষ্ট হব।
.
স্রষ্টাহীন হলে আমি
নরকে নিক্ষিপ্ত হব,
স্রষ্টার অনুগত হলে আমি
ওপারে স্বর্গ মাঝে রব।

Monday, 3 September 2018

তুমি আছো


আমার স্মরণে শয়নে স্বপ্নে তুমি
তুমি বিনা এ ধরায় শূন্য আমি,
.
আকাশের দিকে চেয়ে দেখেছি
মেঘের সাথে তুমি আছো মিশে,
নদীর দিকে চেয়ে দেখেছি
তুমি জলের সঙ্গেও আছো মিশে।
.
সবুজ পাতার রেখায় দেখেছি
তোমার ছবি আঁকা,
পথের ধূলিতে হেটে দেখেছি
সে ধূলিতেও তোমার স্পর্শরেখা।
.
ফুলের পাপড়িতে দেখেছি আমি
তোমার সুগন্ধ ছড়ানো সুরভি,
নীল আকাশে চেয়ে দেখেছি
তোমারি একটি ছবি।
.
রবির আলোয় দেখেছি আমি
নিত্য তোমার জ্যোতি,
তোমার প্রেমে পড়েছি আমি
ওগো নারী সতী।
.
পাহাড়ের চূড়ায় দেখেছি আমি
তোমার বিশালতা,
উড়ে যাওয়া পাখির কণ্ঠে শুনেছি
তোমার মহাৎকর্মের কথা।
.
শহরে নগরে বন্দরে দেখেছি
আমার অবুজ অন্তরে দেখেছি
মেঠোপথের প্রান্তরে দেখেছি
রয়েছে সবখানে তোমার বিচরণ।
.
আমার মনে প্রতিক্ষণে
রেখেছো তুমিই আলোড়ন।
আমার চিন্তা রেখেছো তুমি
তোমারি জাগরণ- তোমারি সুন্দরমন।

প্রকৃতি


নদী পাহাড়ের নেই কোন বিভাজন,
দুজনেই মানুষের কল্যাণে নিবেদন।
পাহাড়ে মিলিত আকাশের আবেদন
সৃষ্টি-সুন্দর রাখতে তিনের আয়োজন।
.
যে মানুষেই পাহাড়ের আসে দ্বারে
বিশালতা নিয়ে যায়ে ফিরে,
নীল আকাশের প্রশান্তিময় হওয়া
হাসি ফোটায় ঠোঁটের নীড়ে।
.
নীলনদের নীল জল
স্নান করিলে দেহে আসে বল,
শুকনো বালির পথে হেটে
শক্তিশালী হয় পায়ের বল।
.
বৃক্ষের সবুজতায় ছেঁয়েছে চারিপাশ
বিষাক্ত হাওয়াহীন প্রবাহিত নিঃশ্বাস
অমলিন হাওয়া স্পর্শে দিচ্ছে আশ্বাস
আনন্দময় হয় যেন মানুষের চারিপাশ।

Friday, 31 August 2018

মানুষ


অন্যায়কারী মানুষ নয়
এ কথা রাখিয় স্মরণে
ন্যায়ে যে মানুষ অবিচল
সেই মানুষ-জীবনে মরণে।
.
মানুষের সুখের জন্য যে লড়ে
তার জন্যেই স্রষ্টা স্বর্গ গড়েন
যে মানুষ নিজের জন্য বেঁচে রন
সে মানুষ অসম্মান নিয়েই মরেন।
.
মানুষ হন তিনি- যিনি
অপরের সুখে ত্যাগী হন
মানুষের আর্তনাদ শুনে
ছটফট করে যার মন।
.
ভোগের পিছে ছোটে যে মানুষ
তিনি কভু মানুষ নন।
মানুষের জন্য লড়াই করে যে
মানুষ তো তিনিই হন।
.
সবার উপরে মানুষ সত্য
মানুষের চেয়ে বড় কিছু নেই
মানুষের মুক্তির জন্য যে লড়াই করে
স্রষ্টার মনোনীত উৎকৃষ্ট বান্দা সেই।

Monday, 27 August 2018

আমার প্রার্থনায় শুধু-তুমি


আমার প্রার্থনায় আছো তুমি
রাত্রিনিশি দিন,
তোমার জন্য আমার প্রার্থনা
হবে না মলিন।
.
শিথিল হয়ে যেতে পারে
প্রাণহীন এ যান্ত্রিক সভ্যতা,
তোমার জন্য শিথিল হবেনা
আমি পথিকের প্রাণে কথা।
.
নীরব হয়ে যেতে পারে
সকল তরুলতা,
নীরব হবে না জেনে রেখো
আমার অন্তরে তোমার কথা।
.
হঠাৎ করে থেমে যেতে পারে
গোধূলি আকাশে পাখির কলতান
কিন্তু কভু তোমার জন্য আমার,
প্রার্থনা থেমে জন্ম হবে না-প্রিয়
অপ্রয়োজনীয় অভিমান।
.
আমার প্রাণে তোমার যে গান
সে গান কভু হবে না অবসান।
.
মহান স্রষ্টার নিয়মানুসারে
নিত্যই আঁধার নামাবে ধরায়
কিন্তু তোমার নির্ভুল শুদ্ধ প্রতিমা
সৃষ্টির অন্তিমক্ষণ পর্যন্ত নিরাপদে
আমার হৃদয় মন্দিরে থাকবে গড়ায়।