Sunday, 30 December 2018

একটি সিধান্ত

আমরা যে সমাজে জীবনযাপন করছি আমাদের পরিবার-পরিজনকে নিয়ে, এ সমাজটির এখন কি অবস্থা তা হয়তো আপনারা অনেকে ভালো করে জানেন। এ সমাজে আজ কোনো নারী নিরাপদ নয়, কোনো মানুষ নিরাপদ নয়; অথচ এই নিরাপদ জীবন সমাজের দৃশ্যতায় প্রতিষ্ঠা করার জন্য এ পর্যন্ত অনেক আইন-কানুন, সিস্টেম রচনা করা হয়েছে এবং সেগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হয়েছে কিন্তু সমাজকে নিরাপদ করতে সক্ষম হয়নি সে সব মানুষের রচিত আইন-কানুন। কারণ
.
বিষবৃক্ষ কোনোদিন মিষ্ট ফল দিতে পারে না, এটা প্রাকৃতিক নিয়ম। যে সিস্টেম যে প্রথা মানুষের ক্ষুদ্র মস্তিষ্ক হতে তৈরি, সে সিস্টেম বা প্রথা দিয়ে কোনোদিন শান্তি আসবে না এটা প্রমাণিত হয়েছে যুগে যুগে। আজ আমরা যে পথ অনুসরণ করছি যে পথে হাঁটছি সে পথ শুধু কাটায় ভরা। এ পথে অতীতে যারা চলেছে তারা এক মুহূর্তের জন্যও শান্তি লাভ করতে পারেনি। এই গণতন্ত্র এই সমাজতন্ত্র শুধু অসংখ্য মায়ের বুকখালি করেছে অসংখ্য বনিতার চোখে অশ্রু ঝড়িয়েছে, মানুষের মুখে হাসি ফুটাতে পারেনি।
.
আপনারা কি চান না এমন একটা সমাজ যেখানে কোনো অন্যায় থাকবে না কোনো অবিচার কোনো অত্যাচার থাকবে না। আপনারা কি চান না এমন একটা সমাজ যেখানে আপনাদের পিতা-মাতা-ভাই-বোন সবাই নিরাপদে বসবাস করতে পারে। তবে কেন ক্ষুদ্র স্বার্থের জন্য নিজের মানবতাবোধকে বিক্রি করে দিচ্ছেন স্রষ্টাহীন সভ্যতার কাছে অসৎ কিছু মানুষের কাছে।
.
যদি চান তবে আসুন আমরা সবাই স্রষ্টার সেই সত্য ন্যায়ের ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ হই এবং এমন একটি সমাজ এমন একটি পৃথিবী আমাদের সম্প্রীতি পারস্পরিক ভালোবাসা দিয়ে নির্মাণ করি যেথায় কোনো অন্যায় থাকবে না, কোনো অত্যাচার থাকবে না কোনো অবিচার থাকবে না। যদি আমরা সিধান্ত নেই যে আমরা সবাই এক স্রষ্টার অনুগত হবো, বিভেদ হয়ে থাকব না মতভেদ করব না, তবে কোনো কিছুই আমাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না এবং আমরা হবো সৃষ্টির মাঝে এক স্বর্গবাসী গোষ্ঠী।

সঠিকটা জানুন

হেযবুত তওহীদ কি বলতে চায়, কি বলছে, তা আগে জানুন। না জেনে-না শুনে আমাদের বিরুদ্ধে অপবাদ আরোপ করবেন না। আমরা মানবতার কল্যাণে আমাদের জীবন সম্পদ উৎসর্গ করেছি, মানুষের ক্ষতি করার জন্য না। সমাজে বিশ্বে যে অন্যায় অশান্তি বিরাজিত তা থেকে আপনারা মানুষকে মুক্তি দিতে পারেননি, এটা আজ প্রমাণিত। কারণ আপনারা যে পথ অবলম্বন করেছেন সেটা ভুল পথ। নিখুঁত নয় সে পথের সাজানো বিষয়বস্তু।
.
আমরা শুধু এই বলতে চাই যে, মানুষ শুধু দেহ নয় তার আত্নাও রয়েছে, আপনারা যতই মানুষের দেহকে শৃঙ্খলায় আবদ্ধ করে রাখুন না কেনো, যতক্ষণ না মানুষের আত্মার পরিবর্তন আনতে পারছেন, ততক্ষণ সমাজে বিশ্বে শান্তি আসবে না।
.
আমরা সেই কথাটাই বলছি গত ২৩ বছর ধরে যে, আসুন মানুষের আত্মার পরিবর্তনের দিকে নজর দিই। আসুন এমন একটা জীবনব্যবস্থা আমরা অনুসরণ করি যে জীবনব্যবস্থায় কোন ক্ষুত নেই। যে জীবনব্যবস্থায় কোনো বিভেদ-মতভেদ নেই। মানুষের তৈরি রচিত জীবনব্যবস্থা দিয়ে আমরা দেখেছি কি ফল হয়েছে সমাজে বিশ্বে, গণতন্ত্র-সমাজতন্ত্র-ফ্যাসিবাদ-রাজতন্ত্র, ইত্যাদি অনেক জীবনব্যবস্থা ইতোমধ্যে আপনারা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখেছেন সমাজে বিশ্বে, সে সব তন্ত্র-মন্ত্র, একদিনের জন্যেও মানুষকে শান্তি দিতে পারেনি। সব তন্ত্র-মন্ত্র ব্যর্থ হয়েছে।
.
কারণ যিনি আমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন তিনিই ভালো জানেন আমরা কোন পথে ভালো থাকবো, কোন পথ অনুসরণ করলে আমরা শান্তি লাভ করবো। আর তিনি তার প্রমাণও দিয়েছেন যুগে যুগে নবী-রসুল প্রেরণ করে। যখনই সমাজ অন্যায় অশান্তিতে লিপ্ত হয়েছে তখনি তিনি নবী-রসুল প্রেরণ করে তা ন্যায় সত্য দিয়ে শান্তিময় ও আলোকিত করেছেন। আর মানুষ ফিরে পেযেছে সুন্দর এক সমাজ। আমরা যে উন্নতির বড়াই করছি, একটু চেয়ে দেখুন তো এ উন্নতি মানুষকে কী দিয়েছে?
.
যে মানুষগুলো মানুষের ক্ষতি করতে জানতো না, সে মানুষগুলো আজ মানুষের ক্ষতি করতে উঠেপড়ে লেগেছে, যে সমাজে নারীরা ছিলেন সৌন্দর্যের প্রতীক, আজ সে সমাজে প্রতিটা মুহুর্তে নারীরা নির্যাতিত- লাঞ্ছিত অপমানিত হচ্ছে। আজ ভাই ভাইকে হত্যা করছে ক্ষুদ্র স্বার্থের জন্য, আজ মানুষ মানুষের বেহালদশা দেখে পাশে দাঁড়ানোর জন্য উদগ্রীব হয়ে উঠেনা। আজ আপনারা বলেন, আপনারা নাকি উন্নতি লাভ করেছেন, অথচ এখনো পৃথিবীর বুকে ৬ কোটি মানুষ উদ্বাস্তু। মানুষ আজো সমাজে এক মুঠো খাবারের জন্য মানুষের দরজায় দরজায় ঘোরে।
.
কিন্তু আপনারা ভুলে গিয়েছেন আল্লাহর সেই মহা পরিবর্তনের ইতিহাস, যে আইয়ামে জাহেলিয়াতকে আল্লাহর শেষ রসুল ন্যায় সত্য দিয়ে, সেই আইয়ামে জাহেলিয়াতের বর্বর মানুষগুলোকে তিনি সোনার মানুষে পরিণত করেছিলেন। যে আইয়ামে জাহেলিয়াতের বর্ণনা শুনে এখনো মানুষ আতঙ্কিত হয়ে উঠে। সেই সময়ের অশভ্র মানুষগুলোকে আল্লাহর শেষ রসুল এমন মানুষ হিসাবে গড়ে তুলেছিলেন যে, কেউ খেয়ে আছে না খেয়ে আছে তা দেখার জন্য পথে পথে ঘুরে বেড়াতেন, কেউ কোন কিছু কুড়িয়ে পেলে তা যতক্ষণ না যার-তার কাছে ফিরিয়ে দিতে পারছে ততক্ষণ বিশ্রাম নিতেন না। প্রতিটি মানুষ যেন অন্যের জন্য বেঁচে থাকার শপথ নিয়েছিল এবং সেই মহাসত্যকে তারা পৃথিবীর সর্বপ্রান্তে ছড়িয়ে দিতে, বাড়ি-ঘর, স্ত্রী-পুত্র-পরিজন সবাইকে ছেড়ে বেরিয়ে পরেছিল পৃথিবীর বুকে। পরিণামে পৃথিবীর অনেক স্থানে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে সুবিচার শান্তি নিরাপত্তার অনাবিল আনন্দ মানুষের মাঝে।
.
আমরা সেই আল্লাহর প্রেরিত মহাসত্যকে আপনাদের সামনে তুলে ধরেছি, আমরা নতুন করে কিছুই আবিস্কার করিনি আর না আমাদের কোন কিছু আবিস্কার করার প্রয়োজন আছে বলে আমরা মনে করি, তবে হ্যাঁ আমরা একটা শান্তিপূর্ণ পৃথিবী আবিস্কার করার স্বপ্ন প্রতিক্ষণেই দেখি। আর আমরা সেই শান্তিপূর্ণ পৃথিবী যতদিন না আবিস্কার করতে পারছি ততদিন আমরা বিশ্রাম নিবো না।