Tuesday, 5 February 2019

আমি সমাজের সাধারণ মানুষের সাথে মিশে দেখেছি, তাঁদের মধ্যে বিরাট প্রকৃত ধর্মের শূন্যতা। সমাজের সাধারণকে জানানোই হয়নি, ধর্ম কাকে বলে, মানবতা সম্প্রীতি কাকে বলে। যুগ যুগ ধরে ধর্মের পুরোহিত পণ্ডিতরা, শুধু কিছু উপাসনা আর নিয়মকে ধর্ম বলে, সাধারণ মানুষের সামনে পেশ করেছে। ফলে সমাজের সাধারণ মানুষ-মানুষের কল্যাণে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়নি, সেই মনোভাব সৃষ্টি হয়নি। সাধারণ মানুষ বুঝতেই পারেনি, কোনটা ধর্মের কাজ, কোনটা অধর্ম- অন্যায়। আমি যখন সমাজের সাধারণ মানুষের সামনে, ধর্মের প্রকৃত রূপ তুলে ধরি, তখন তারা তাজ্জব হয়ে আমার দিকে তাকিয়ে থাকে।

যদি মানুষকে জানানো হতো, অন্যায়ের সাথে আপোষ করা অধর্ম-অন্যায়, সমাজে অন্যায় অত্যাচার বিরাজ করলে, কোনো ইবাদত আল্লাহ কাছে ঈশ্বরের কাছে ভগবানের কাছে গ্রহনযোগ্য হয় না। তা হলে আজ আর এমন বৈষম্যপূর্ণ পরিবেশ সমাজে বিরাজ করতো না। মানুষ মানুষের ক্ষতি করার জন্য, উঠেপড়ে লাগতো না।

মানুষকে যখন ধর্মব্যবসায়ীরা নিজেদের স্বার্থের জন্য ধর্মের শিক্ষা থেকে দূর করেছে, তখন মানুষের মাঝে সৃষ্টি হয়েছে, শুধু নিজেকে নিয়ে ভাবার নিজেস্ব চিন্তা-ভাবনা। কারণ সাধারণ মানুষ ধর্মের পণ্ডিতদের অন্ধের মতো বিশ্বাস করে।
আমি যখন সমাজের মানুষকে বলি, আসুন আমরা ন্যায়ের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হই, তখন তারা নানা রকম দ্বিধায় ভোগে। কারণ তারা এ পর্যন্ত এই ধর্মব্যবসায়ীদের দ্বারা এমনভাবে প্রতারিত হয়েছে যে, এখন তারা কাউকে বিশ্বাস করতে সাহস পায় না। মানুষের প্রতি মানুষের বিশ্বাসের স্থানটা এমনভাবে ধর্মব্যবসায়ীরা নষ্ট করেছে যে, এখন মানুষের ধর্মের প্রতি ঈমান থাকা সত্ত্বেও ধর্মের ন্যায় সত্যকে জীবনে মেনে নিতে পারছে না।

আমি যখন বলি, আল্লহর হুকুম মান্য না করলে, কেউ আর মো’মেন থাকে না, ধার্মিক থাকে না, তখন তারা চমকে উঠে। একি কথা, তা হলে আমরা ধার্মিক নই? তখন আমি বলি, “মানুষের ধর্ম মানবতা, যেভাবে আগুনের ধর্ম পোড়ানো, পানির ধর্ম ভেজানো”।

আমি প্রেরাই সময় বলে থাকি, আমার এই কথাকে পারলে কেউ, মিথ্যা প্রমাণিত করে দেখাইক। মানুষ যখন দুঃখে কষ্টে থাকে, তখন কারো প্রার্থনা আল্লাহর কাছে গৃহীত হবে না। এই কথা আমি নিজে থেকে বানিয়ে বলছি না, স্বয়ং আল্লাহ বলেছেন;
“তোমাদের পূর্ব কিংবা পুশ্চিমদিকে মুখ ফিরানোতে কোনো পূর্ণ নেই” 
“পূর্ণ আছে তাঁদের জন্য, যারা সৎকাজ করে অতঃপর মানুষকে মহব্বত করে”। 
[ সুরা বাকারা ২:১৭৭ ]

আমি খুব কাছ থেকে দেখেছি, আমাদের মহামান্য এমামুযযামানকে, তিনি বলতেন, “পৃথিবীজুড়ে যখন অশান্তির দাবানলে মানুষ দাউ দাউ করে জ্বলে, তখন কারো ধর্ম পরিচয় থাকে না, সকল ধর্ম পরিচয় মিথ্যা হয়ে যায়”। আমাদের শেষ রসূল (সাঃ) বলেছেন,

“পৃথিবীর এক প্রান্তে কেউ যদি না খেয়ে থাকে আর তোমরা পেট ভরে খেয়ে থাকো, তবে তোমাদের ধর্মপরায়ণ মানুষ নিজেকে মনে করা মিথ্যা হবে, আল্লাহর সাথে প্রতারণা করা হবে”। “তোমরা মনে রাখবে, সেই আসল মো’মেন, যে আল্লাহর হুকুম দিয়ে সমাজে শান্তি কায়েম রাখবে আর মানুষের না বলা ব্যথা বুঝবে, অতঃপর সেই ব্যথা সমাধানের জন্য ব্যাকুল হয়ে উঠবে”। 

আমরা হেযবুত তওহীদ মানুষের বেহালদশা দেখেছি দুঃখ কষ্ট দেখেছি এবং এই অবস্থার কারণ কি, তা জেনেছি। মানুষ যখন তওহীদ থেকে সরে গেছে, তখনি সৃষ্টি হয়েছে মানুষের জীবনে অন্যায় অশান্তি রক্তারক্তি। এই অবস্থা থেকে মানবজাতির একমাত্র মুক্তির পথ হচ্ছে, তওহীদে পুনরায় (back) করা। তওহীদের উপর পুনরায় পুরো মানবজাতিকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে, তবেই ফিরে আসবে, সমাজে দেশে বিশ্বে অনাবিল শান্তি।

আকাশ তার সমস্ত রহমত খুলে দিবে, জমিন তার সমস্ত নেয়াত উজাড় করে দিবে, প্রকৃতি তার সমস্ত কিছু নিবেদন করবে মানুষের সেবায়। যদি আমরা সত্য ন্যায়ের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হই।