আমি: তুমি কি জানো প্রিয়া, সূর্যের রঙ কত প্রকার হয়?
তামান্না: আমি জানি না প্রিয়, তুমি বলেই হয়.....
আমি বলব? হ্যাঁ তুমিই বলো-
সূর্যের রঙ দেখেছি আমি সেদিন ছিল লাল,
হঠাৎ দেখেছিনু কমলে গতকাল,
ধূপ বর্ণও হয় যে প্রিয়া মাঝে মধ্যে দেখি।
তামান্না: এসব তুমি বলছ কি?
আমি: সত্যি বলছি প্রিয়সী।
.
তামান্না: আচ্ছা নদীরজলে কোনো কালে, দেখেছ কি তুমি?
আমি: কি?
তামান্না: সূর্যের আলোয় শাপলা খেলা করে,
নীলজলে স্নেহের ছলে, শাপলা যে দোলে।
দেখেছ কি পদ্মপাতায় জলরাশি
দেখেছ কি কচুরিপানায় জল থাকতে নিরাপদ?
আমি: না তো, দেখিনি তো কখনো প্রিয়া...
তামান্না: কি বল তুমি... এসব দৃশ্য না দেখে থাকলে কী করে,
হবে তুমি আমার কাছে দামী?
আমি: আমি দামী হতে চাইনে তোমার কাছে প্রিয়া,
চাই শুধু একটু কাছে পেতে তোমার হিয়া।
যেথায় তুমি সযত্নে রাখো পবিত্র স্বপ্ন-শিশু,
সেথায় আমি হতে চাই শুধু অল্প কিছু।
তামান্না: ও আচ্ছা এই তোমার বাসনা...
আমি: হুম প্রিয়া এইটুকুই আমার বাসনা...
যদি পূর্ণ করতে ইচ্ছুক থাকো তুমি,
তবে এবার একটু হাসনা।
.
তামান্না: অকারণে কী হাসা যায় প্রিয়, তুমি একটু কারণ বল,
আমি হেসে দিই-তুমিও হেসে দিও।
আর হ্যাঁ আমার হাসিতে কি তুমি
ভীষণ আনন্দ অনুভব করো?
আমি: আনন্দ বললেও কম হবে প্রিয়া,
তোমার হাসিতে আমি পারি ভাসিতে,
শূন্য জমিতে কৃষক যেভাবে করে চাষ,
আমি তোমার অল্প হাসিতে বেঁচে থাকার উৎস পাই,
লক্ষ্য কোটি বছর, অগণিত মাস।
.
তামান্না: তাই বুঝি,
আমি: হুম....তোমার কোনো সন্দেহ আছে কী এতে?
তামান্না: না, সন্দেহ না; তবে কেন জানি আমি মানি,
এসব ভালো লাগা, মনোহর সুখ, বেশি হলে,
বেদনা-বিধুর হয় বুক-খুব।
তাই ভয় পেয়ে যাই, শূন্যতায় মুখ লুকাই,
তোমার কথা স্মরণ হলে,
আঁধারে আমি নিজেকে শুঁকাই।
.
আমি: আমি জানি-রাণী, তুমি কেন এমন ভেবেছ,
দ্বন্দ্বটা তো তোমার মনের নয়।
এমন দ্বন্দ্বটা তো সূচনা করেছে কিছু প্রবঞ্চক মানুষ,
যারা মনুষ্যত্ব বিকিয়ে দিয়ে, করেছে অপকর্ম,
তাদের জন্য আজ কুৎসিত ধর্ম-মর্ম- সাম্য।
আমার কথায় জানি... আমি, হবে না কিছুই ঠিক।
তবু তারা যতই সমাজ থেকে মানুষের মন থেকে ভালোবাসা ছিনে নিক। যে’সব মানুষ ভালো কাজে সবার মাঝে অবিচল,
তাঁদের মনে হয়তো কোনো ক্ষণে আমি হবো ভিত।
সেদিন না হয় বলিও তুমি, আমি তোমার স্বপ্ন-পুরুষ.....
হাজারো শূন্যতায় মগ্ন ছিলে যে রাজকুমারের জন্য।
হয়তো সেদিন হবো আমি... তোমার পেয়ে ধন্য।
আজ না হয় তোমার কল্যাণে হই আমি ভিন্ন।