Monday, 18 February 2019

চিরকুট

খুব অল্প সময়ে আমাদের পরিচয়, অনেক মলিন ব্যথা হয় বিনিময়, হয় খুব সযতনে ভালো লাগা সঞ্চয়, 
মনে ভয়, তবু কেন জানি লাগে জয় জয়! তুমি দেখতে ভালো- সূর্য আলো, কথায় তোমার ছন্দ ছড়ালো! 
এমন আমি আগেও দেখেছি, মনে মনে আনমনে হয়তো তোমায় কিছুটা লিখেছি!
শুনেছি ভালো লাগা থেকেই ভালোবাসা ভাষাহীন হয় উদ্ভাসিত, 
আমি রীতিমত অনেকটা আতঙ্কিত!
.
আমি জানি এটা আমার ভুল, অবশেষে হারাব বন্ধু হওয়ার বন্ধন কূল!
তুমি ভীষণ সতেজ, ভীষণ প্রকৃতি আমেজ, ভীষণ শুদ্ধ এক মেঘ-বালিকা!
যদি কথা বলি, সুদূরে ছুঁয়ে চলি, জানি তুমি- শুদ্ধই রবে, নব নব!
.
এই দিনগুলো যেন না হয় মলিন, কোন ক্রমে,
অযতনে ভুল ভ্রমে!
যদি দূরে চলে যাও আঁখি হয়ে যাবে নদী,
অশ্রু ঝরবে নিরবধি, হয়তো জীবন যাবে থেমে!
তুমি আমার কাছে অনেকটা দামী,
অনেকটা অনুভবে অবুঝ পাগলামী!
.
প্রভাতের ফুল তোমার এলোমেলো চুল,
“পুষ্প আর চন্দন থালায় যখন তুমি হেঁটে যাবে মন্দিরে,
তখন আমি হয়তো অনুগামী হয়ে রব বন্দী রে”!
কিছু প্রার্থনা হবে প্রভুর নিকট নিবেদন,
কিছু প্রার্থনা হবে আমার নিকট সমর্পণ!
তুমি মাথা নুয়ে, হয়তো পা ছুয়ে, করবে প্রণাম,
আমি বিস্মৃত হয়ে, হয়তো তোমায় করব সম্মান!
সে মধুময় সুন্দর ক্ষণ হয়তো ঈশ্বর দেখবে আসমানে বসে,
বলবে অনেক কথা আমাদের নিয়ে, আনায়সে হেসে হেসে!
.
শুনেছি মাতা দুর্গা দেবতার প্রাণ, মাতার ভালোবাসায় দেবতা হয় দয়া’মান,
কতটুকু সত্য কতটুকু কল্পনা, আমার জানা নেই! আমি শুধু জানি,
কন্যালোক হয় পিতাসহ স্বামীর কাছে রাণী! এটা অমলিন সত্য বাণী।
.
তোমার জীবন তেমন হয়নি পড়া, আপন মনে তোমার কি স্বপ্ন গড়া,
শুধু জেনেছি তুমি সহজ, দেখেছি তোমার সরলতা,
দেখেছি তোমার নীরবতা আমার কথার ভিরে,
আমি নীর হারা পাখি, উড়ে উড়ে ভবঘুরে অনেকের খোঁজ রাখি!
আমি দেখতে অসামান্য কালো,
চোখে মুখে লজ্জা ছলছল,
সুরতে সজ্জা পরিচিত ধুলো!
.
সেদিন আকাশে দক্ষিণা বাতাসে শুনেছি পাখিদের কলরব,
তাদের মুখে আনন্দ সুখে তোমারই অনুভব!
তুমি নাকি তাঁদের সঙ্গে কাটিয়েছ শৈশব,
তোমার নিয়ে তাঁরা আত্মাহারা তুমিই নাকি ওদের সব!
.
শুনেছি তোমার ভাই মিথুনের কথা,
সে নাকি তোমার তাজ্জব মিতা!
ছবি দেখে তার, আমি করছি ওর এই সমাচার,
সে বড্ড দুষ্টু তবে তার ভালো ব্যবহার-
আমি অনুভব করেছি ওর সংস্কার!
“দেখে তার মুখ লাগে প্রাণে সুখ,
দূর হয় দুখ, সে তোমার প্রিয় অসুখ”!
সত্য বলেছি কি আমি নন্দিনী?
আমার নির্ণয়ে সে অনেক স্মার্ট সচেতন ছেলে,
কথা তার যেমনই হয় না কেন, দৃষ্টিতে তার তোমার মায়া মেলে!
এমনটা আমার মনে হয়,
এটা আমার কোনো পদ্য নয়!
সে আসলেই একজন সুষ্ঠু-বিশিষ্ট লোক,
চোখে চোখ রেখে তুমি চেয়ে দেখো,
সে বড় হয়ে হবে -তোমার থেকে অনেক বড়লোক!
.
“মিথুন এক দুর্দান্ত বালক
উড়ন্ত তাঁর কদমে কদম
অফুরন্ত তাঁর ভালোবাসা
তোমার জন্য অবিরাম”!
.
সামান্য অভিমান মায়াভরা অভিধান সবটুকু মাতা-পিতা,
তুমি লক্ষ্মী তুমি নন্দিনী তুমি পুস্প তুমি অপরিচিতা!
“আঙ্কেল এর একটি ছবি দেখেছি, মুখে দেখেছি তাঁর মায়াভরা হাসি,
সত্যি করে বলতে পারি, সে তোমাকে বলে থাকে, মা তোকে খুব ভালোবাসি!
নানা কাজে স্পর্শকাতর সেই নুয়ে থাকা হাত,
তোমায় অনেক আদর করে,
বলে তুমি ঘুমিয়ে পড় মা-হয়েছে খুব রাত”!
.
“আন্টির সম্পর্কে এক জীবন বললেও হবে হয়তো কম,
তিনি এক হিমালয় স্নেহ-মায়া-মমতা অপার, তিনি অনুপম!
তোমার হাসিতে তিনি দুঃখ হারিয়ে ফেলে,
তোমার ভাষাতে তিনি সুখের আঁচল মেলে”!

“খুনসুটি অনুরাগ অদেখা অভিযোগ সব কিছু ভোলে
যখন তুমি শহর থেকে বাড়ি যাও কিছু না বলে!
তোমার হঠাৎ উপস্থিতি সুদূরে মিলায় সব অনুযোগ
তুমি তাঁর প্রিয় সুখ তুমি তাঁর প্রিয় চোখ”!
.
ফিরছি তোমার কথায়, তুমি অজানায় রয়েছ নীরবতায়,
তোমার সম্পর্কে আজ আর নয়,
কিছু তথ্য থাকুক গুপ্ত থাকুক সঞ্চয়!
সবশেষে তোমার জন্য এই ছোট উক্তি
আমার ভাষায় ছোট করে করিলাম মুক্তি!

“তুমি মানে সূর্যে অঙ্গে নিত্য দীপ্ত
তুমি মানে গভীর রজনীতে শালীন
তুমি মানে সৃষ্টি রঙে মানব মনে নুরী
তুমি মানে সবুজ লতায় চির অমলিন”!