Thursday, 16 May 2019

আমার অধিকারে

ও তোকে বাস্তবতায় ছোঁয়
শরীর দিয়ে আদর করে,
জড়িয়ে ধরে, ইচ্ছে হলে
তোর অধিকারে।

আমি তোকে শব্দ দিয়ে ছুঁই
কলমের কালিতে আদর করি,
আঁকড়ে ধরি কাব্যি হলে-
রোজ মাঝরাতে,,,
শুধু- শুধুই আমার কল্পনাতে
আমার অধিকারে।

শুদ্ধতার

যুগল চোখের ভূগোল দেখা সকল বেলায় সত্য না,
ব্যথার বন্ধু মরফিন ও যে সুস্থ কালের পথ্য না।
কিছু হাসি কষ্টে আসে, কান্না মাঝে ও সুখ থাকে,
কারো কারো দেহের ভেতর সাড়ে তিন হাত বুক থাকে।

তোমরা যেটা নয় দেখেছো আমার কাছে সেটাই ছয়,
সবার দেখাই সমান হবে হিসেব কিন্তূ এটাই নয়।
তোমরা যাকে ভুল বুঝেছো, হয়তো জীবন রুদ্ধ তার,
অন্ধকারের ভাগ না নিয়ে কিসের দাবি শুদ্ধতার?

মুক্তি কর হে দান

ভাতের বাষ্প উড়ছে মানে, তৈরী হচ্ছে অন্ন
মানুষরূপী জীবগুলো সব, অন্যায় করে বন্য।
সৃষ্টির সেরা- কেউ নেতা, কেউ আবার কীট
কেউ আবার মানুষ'কে মারতে, সদা উদগ্রীব।
.
ক্ষুদ্র স্বার্থে রেহাই পায় না, প্রবঞ্চনা অবাধ,
সত্য বলায় হয় মৃত্যু দণ্ড, অন্যায়ে উন্মাদ।
সবার মাঝে বসত করে, ইবলিস শয়তান,
বেশভূষার অন্তরায় হয়, ‘আল্লাহ’ অপমান।
.
এক আদর্শ এর নানা ফেরকা, জাতি খণ্ড খণ্ড
ধর্মের বেশভূষা ধরে-আছে, সমাজের সব'ভণ্ড।
.
যে যত কথায়-সাধু, সে তত আজ কুলাঙ্গার,
সকল কর্মে-মানব ধর্মে, সেই আজ স্বৈরাচার।
বিশ্ব জুড়ে উদবাস্তু আর, নিঃস্ব মানুষের প্রাণ,
ত্রাহিসুরে বলছে সবাইকে, মুক্তি কর হে দান।

ইচ্ছে

তুমিও মানুষ আমিও মানুষ, তফাৎ শুধু গঠনে
তোমার হাসি চাঁদের আলো, ঝড়ে আমার উঠোনে।

আমি মেঘ খুব আবেগ, সামান্য ব্যথায় কাঁদি,
তোমায় ভালো'বাসি বলে, বেলা অবেলায় সাধি।
তোমার পাশে হয় যেন গো, ‘তনু’ আমার সমাধি,
তোমার কথায় বলি প্রিয়, ভোর হতে রাত অবধি।

ফুটপাতে

ফুটপাতে থালা হাতে, কত শিশু- বুড়ো দাঁড়িয়ে
করুণ সুরে চাচ্ছে সাহায্য, হাত দু'খানা বাড়িয়ে।
কেউ করছে তুচ্ছতাচ্ছিল্য কেউ দিচ্ছে তাড়িয়ে
কেউ দিচ্ছে দুএক টাকা, অহংকারে বুক ফুলিয়ে।

অসহায়; অনাহারী ‘মা’ জননী, ছেড়া শাড়ি পড়ে
ব্যথার সুরে পাতছে হাত, দু'বেলা খাওয়ার তরে।
কত অবুঝ শিশু- কেউ ছেলে আবার কেউ মেয়ে,
বস্তুহীন খাদ্যহীন নিত্যদিন, তোমাতে থাকে চেয়ে।

তোমার দামী জামা-চুলে তেল আর হাতে আইক্রম
যা দেখে তারা নীরবে কাঁদে, ভীষণ কষ্টে প্রতিদিন।
তুমি আমি আমরা সবে-এ ভবে, থাকছি মোহে মত্ত
চোখের সামনে মোদের মত, মানুষ হচ্ছে নিষ্পেষিত।

মানবতা নৈতিকতা উদারতা, সবকিছু আমরা ভুলেছি
মানুষ হয়ে মানুষে রে আজ, গৃহহীন আমরাই করেছি।
নানা স্বার্থে বিগত যত রাত্রে, যত গৃহে আগুন দিয়েছি
ততটা আজ মানুষ বিপর্যয়ে, যতটা আমরা ছিনিয়েছি।

হোক

তোমার এলোমেলো চুল- কপালে'র টিপ,
দু'হাতে দুগালে'র ভার আর মায়াবী দু’চোখ
দেখে যদি আমার মরন হয়, তবে তা হোক।

নিথর তোমার ও লালচে ঠোঁট আর কপালের ভাজ
বলে দেয় কিছু গোপন কথা, বুঝে নেয় হৃদয় আজ।

ভুমি কাপে

সকলের মুখে কত, বেনামী প্রলাপ
সারাক্ষণ ছড়িয়ে যায়, সঞ্চিত পাপ,
হৃদয়ের মন্দিরে আজ, স্বার্থের বাস
মানুষের ধ্যানে- জ্ঞানে, হীন উচ্ছ্বাস।
.
মানবতাহীন সমাজে, যাদের বসবাস
তাদের কাজে শুধু- মানুষ হচ্ছে গ্রাস।
এ কেমন জগতে আমি, বেঁচে আজ
যেদিকে তাকাই দেখি, মরনে'র সাজ।
.
ধ্বংস হবে কি তবে, আমাদের গৃহ-ঘর
বারুদের গন্ধ ছড়ায়, বাতাসের ভিতর।
তোমরা কি ঘুমিয়ে আছ, ভূমির উপর?
জেগে উঠে দেখো সবে, ভুমি কাপে-
ধ্বংস লীলায়.... থরথর।