Tuesday, 13 November 2018

মৃগতৃষ্ণা


দুটি চোখ অন্ধ হয় বারবার
কারও অভিশাপে নয়,
তোমার রুপের ঝলকানিতে
বারবার মরে আবারও
বাঁচতে ইচ্ছে করে
তোমার হাতটি ধরে।

তোমার ঐ উষ্ণ শ্বাসে
আমার শীতল শ্বাস মিলে
যে গভীর মায়াজাল বুনে- অগোচরে
তা কি কখনও টের পেতে?

ধর, আরও একটা যুগ পরে
ঠিক এমনি করে দূর হতে
যদি আমার ধ্বনি ভেসে যায় বাতাসে
তোমার কাছে,তুমি কি বুঝবে?
নাকি চোখ বুজে অন্য কারও গভীর শ্বাসে
নিজের শ্বাস বিকিয়ে দিবে?

লক্ষ যোজন দূরে থেকে
বিনা তারে আমার ক্রন্দন যদি
তোমার কানে বাজে
তবে সেটাকেও কি তুমি মিছে ভাববে?

নিদ্রাহীন

ঘুমহীন এই রাতে
আলো আর আঁধারের মাঝে
দুচোখে তন্দ্রায় দৃষ্টিত্রুটি আঁকে
কিভাবে আশারা যাবে স্বপ্নের পথে ৷

আমি একা আর পাশে শূণ্যতা
এক প্রশস্ত বিছানায় জেগে জেগে কল্পনা
চারিপাশ নিস্তব্ধতায়, শব্দ সময়ের প্রতিধ্বনি
নিয়তই পাড়িদেয় পূর্ণ স্পন্দনে, যে পথ কেন্দ্রমুখী
আলোক রেখা সমূহ চলছে, অনুপ্রস্থে
যদি আমি পারতাম যেতে এই অনুরুপে
যত পথ যত দূরত্ব সব শূন্য করে ৷

কখনো কখনো এই পথ এনেদেয় সম্ভাব্যতা
এথা আর হেথা যত ব্যবধান, আপেক্ষিকতা ৷
মনেহয় একদিন আবেগগুলো যাবে মুছে
এই মহা বিশ্ব কেবলই একটি কোয়ান্টাম ক্ষেত্রে?
অনুভূতি, ভালোবাসা অধীরতায় প্রতীয়মান
মনে হয় এই পথ পাড়িতে যাবে জীবনমান ৷

ভোরবেলা


জানিস তনু
রোজকার রুটিনে অনেক পরিবর্তন এসেছে
তবুও ভোরগুলো শুরু হয় তোর কথা ভেবে
আর গোধূলী বেলা পর্যন্ত চোখ মেলা থাকে
তোর ফেরার পথ চেয়ে ,
নির্লিপ্ত অপেক্ষাতে।
মুঠোফোন হাতে চোখ মেলেই খুঁজি তোকে
কাছে না পেলেই চোখ ভিজে যায়,
তা দিয়েই আমার দুয়ার ধুয়ে রাখি,
পাশে তোর কষ্টগুলি
আগুন হয়ে উঠে যদি।
এভাবেই কেটে যায় নিত্যকার এক একটা প্রহর
সপ্তাহ, মাস বছর যুগ-পেরিয়ে
এভাবেই হয়ত কেটে যাবে একটা জীবন।

হাহাকার


দেশের মধ্যে যখন মানুষের দ্বন্দ্ব চলে, মানুষ যখন স্বার্থের জন্য মিথ্যা কথা বলে, অন্যায় পথে চলে, তখন সে দেশের সে সমাজের মানুষের ধর্ম বলতে কিছু থাকে না। মনে রাখবেন ধর্ম একতার নাম উন্নতির নাম সম্মিলিতভাবে বসবাস করার নাম। আর মানুষ যখনি ঐক্য নষ্ট করেছে তখনি ধর্ম নির্বাসনে গিয়েছে যার ফলে সৃষ্টি হয়েছে সমাজে দেশে অশান্তি। বৃক্ষ থেকে যেভাবে ফলের জন্ম হয় আর মাটি থেকে অসংখ্য খাদ্যের উৎপন্ন, ঠিক তেমনভাবে মানুষের সম্মিলিতভাবে বসবাস করার মাঝেই সৃষ্টি হয় সুন্দর পৃথিবী আর সমাজের নিরাপদ চিত্র। মানুষেই মানুষের উন্নতি ও অবনতির দ্বার, মানুষ যখনি আলাদা হয়েছে তখনি সৃষ্টি হয়েছে মানুষের মধ্যে সংহার সৃষ্টি হয়েছে অশান্তি সৃষ্টি হয়েছে হাহাকার।

নারী সম্মেলন ২০১৮


সকল বেড়াজাল ছিন্ন করে
মানবজাতির শান্তির তরে
আমরা হয়েছি বিদ্রোহী বীর
সকল অন্যায় আত্যাচার মিথ্যাচার ও
নারীর অধিকার হরণ কারীদের বিনাশ করতে
আমরা হয়েছি অস্থির “আমরা চির উন্নত মম শির”।
.
আমরা জেগেছি জাগাতে জাতি
মিথ্যা প্রথার সকল বাতি
করতে সমূলে শেষ
ত্যাগ করেছি সদাই রেস্ট 

ফিরিয়ে আনতে ন্যায় পরিবেশ।
.
যারা নারীর হাতে ঝুড়ি তুলেছে
মাথার উপরে ইট
যাদের জীবন সত্যহীনতায়
হয়েছে সমাজে কীট।
তাদের জীবনে সত্য ছড়াতে
আমরা হয়েছি উদগ্রীব।

অমানুষ

আমার এই দু’চোখ দিয়ে
অনেক দেখেছি নারীর আর্তনাদ,
অনেক দেখেছি অমানুষকে
যারা নারীর গায়ে দেয় হাত।

দেখেছি আমি মায়ে অশ্রু
অঝোর ধারায় বয়ে চলা,
দেখেছি আমি হীনদের
মনুষ্যত্বহীনভাবে কথা বলা। 


আমি হয়তো বহুবার এসব দেখে 

গিয়েছি মরে
দেহে শুধু প্রাণটাই আছে
হৃদয়ে জমেছে কয়লা যা জ্বলছে ভীষণভাবে।

নির্ভুল

একদিন হয়তো আমি উন্নত হব
তোমার মতো হয়তো রব,
রবে হয়তো আমার অনেক কিছু
অনেকে হয়তো হাটবে আমার পিছু।
.
তবুও আমি ভুলে যাব এ অতীতের কথা
ভুলে যাব সব- এ অতীতের ব্যথা
আমি তো শুধু একজন মানুষ হব
মানুষের কল্যাণে কথা কব।
.
আমার থাকবে না কোনো অহংকার
আমার তো ওই জীবন হবে
তোমার অবহেলার অলংকার
যা তুমি করছো আমার সাথে।
.
হয়তো এ রাত কেটে যাবে
আসবে সোনালী আলো
হয়তো তুমি ঘুম থেকে উঠে
থাকবে অনেক ভালো।
.
আমার ভালোটা লুকিয়ে গেছে
অজানা নিরুদ্দেশে
আমি হয়তো ভুল করেছি
তোমায় ভালোবেসে।

পুরোটাই


দু'জন দু'দিকে নির্জনে বসে
হয়তো দেখবো ভোর,
হয়তো তুমি ভাবছ আমায়
কতটা আমি তোর।
আজ বলে দিচ্ছি তোমায়
তুমি পুরোটাই মোর।

অলীক কল্পনা

ছোট্ট এক জীবন আমার
সুখের স্বপ্নে গাঁথা
অনেক বন্ধুর পথ পেরিয়ে
স্বপ্ন কাব্য আঁকা।
রঙিন রঙিন প্রজাপতি
উড়ে বেড়ায় মনে
দক্ষিণ দুয়ার খুলে রাখি
তাহার পথের পানে।

কমতি

পাশে থেকেও পাশে নেই
আছি লক্ষ যোজন দূরে,
দূরে থেকেও দূরে নও তুমি
আছো হৃদয় জুড়ে।

মন আনচান কি যে জ্বালাতন
সারাক্ষণ বসে করি আলাপন,
সকাল সন্ধ্যা আশায় থাকি
আসবে বুঝি তোমার নিমন্ত্রণ।

যে পাওয়ায় যায় কেটে মোহ
বুকের মাঝে জাগে না শিহরন,
সেই ভালো যদি সে না হয় আপন
অতীত কে ভালবেসে করি চুম্বন।

ধর্ম কোনো পণ্য নয়

আমাদের সমাজে বহু পন্থায় ধর্মকে পুঁজি করে স্বার্থ হাসিল করা হয়। নামাজ পড়িয়ে, কোর’আন খতম দিয়ে, মিলাদ পড়িয়ে, জানাজা পড়িয়ে, খোতবা-ওয়াজ করে, পরকালে মুক্তিদানের জন্য জান্নাতের ওসিলা সেজে কথিত আলেম, মোল্লা-মাওলানারা অর্থ উপার্জন করে। আবার অনেকে ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে, মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিকে কাজে লাগিয়ে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের মোকাবেলা করে। এই সবগুলোই ধর্মব্যবসা।
.
ধর্মের কাজের কোনো পার্থিব বিনিময় হয় না, এর বিনিময় বা পুরস্কার কেবল আল্লাহর কাছেই রয়েছে। কিন্তু যখনই তার মূল্য নির্ধারণ করা হয় বা স্বার্থের লোভে ধর্মের আশ্রয় গ্রহণ করা হয় তখন আর সেটা ধর্মকর্ম থাকে না, সেটা হয়ে যায় ধর্মব্যবসা, যা সকল ধর্মে নিষিদ্ধ।
.
মানুষের ইতিহাস সত্য-মিথ্যা, ন্যায়-অন্যায়ের চিরন্তন দ্বন্দ্বের ইতিহাস। এই দ্বন্দ্বে কখনও কখনও সত্য জয়ী হয়েছে আবার কখনও হয়েছে বিপর্যস্ত। সকল সত্যের উৎস হচ্ছেন মহান আল্লাহ, তাঁর পক্ষ থেকেই মানুষ যুগে যুগে সত্য লাভ করেছে।
.
আদম (আ:) থেকে শুরু করে আখেরী নবী মোহাম্মদ (দ:) পর্যন্ত পৃথিবীর প্রতিটি জনপদে, প্রতিটি সমাজে আল্লাহ সত্যদীনসহ তাঁর নবী, রসুল, অবতার প্রেরণ করেছেন। তাদের মাধ্যমেই সত্য এসেছে, সত্য জয়ী হয়েছে, সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
.
কিন্তু এই মহামানবদের অন্তর্ধানের কিছুকাল পর থেকে ক্রমেই তাদের আনিত দীনে বিকৃতি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। মানুষের মধ্যে স্বার্থচিন্তার বিস্তার ঘটেছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই প্রাথমিক বিকৃতি এসেছে নেতৃত্ব পর্যায়ে। লোভ-লালসা, অহংকার, ভোগ-বিলাসিতার মোহ শাসকদেরকে খুব সহজেই অধর্মের পথে চালিত করেছে।
.
কিন্তু অধর্মের শরণাগত হলেও শাসকরা এটা ভালো করেই জানত যে, সমাজ তাদের অধর্ম মানবে না। যে কোনো সময় ধর্মপ্রাণ সাধারণ জনতা অধর্মের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে পারে। এমন সময় শাসকদের প্রয়োজন পড়েছে এমন একটি ধর্মজ্ঞ শ্রেণির যারা শাসকদের পক্ষ থেকে জনগণের কাছে জবাবদিহি করবে, শাসকের অন্যায় কর্মকে ধর্মের আলোকে ফতোয়া দিয়ে সঠিক প্রমাণ করবে, অর্থাৎ এক প্রকার দালাল শ্রেণির। অবশ্যই ধর্মের ব্যাপারে তাদের পাণ্ডিত্য থাকতে হবে সর্বজনবিদিত। কারণ, সমাজ কেবল তার কথাই বিশ্বাস করবে, শুনবে ও মানবে যারা ধর্মের জ্ঞান রাখে, ধর্মীয় কেতাব যাদের মুখস্থ।
.
ইতিহাস এটাই বলছে যে, এই দালাল শ্রেণি খুঁজে বের করতে অধার্মিক শাসকদের তেমন বেগ পেতে হয় নি। কারণ আগেই বলে এসেছি তখন মানুষের মধ্যে একটু-আধটু স্বার্থচিন্তা প্রবেশ করে ফেলেছে। আর যেখানে স্বার্থের চিন্তা থাকে, সেখানে অধর্মের পথে কোনো বাধাই টেকে না, শাসকের বিপুল ধনরাশি, মান-সম্মান আর ক্ষমতার প্রলোভনের সামনে তো নয়ই। এভাবেই প্রায় সকল ধর্মের অনুসারীদের মধ্য হতে ধর্মব্যবসায়ী শ্রেণির উৎপত্তি ঘটেছে, ধর্মব্যবসা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করেছে।