Thursday, 21 March 2019

নিয়তি

আহত হৃদয় জানে শুধু- বিগত দিনের ক্ষত
কতটা আমি একলা মানুষ, কতটা আমি নত।
.
বেলা অবেলায় ভীষণ হেলায়, চলে যায় কত ব্রত
স্মৃতি-জুড়ে আজ শুধু-ই ক্ষত, প্রীতিহীন শত শত।
.
আমি তো ছিলাম দুরন্ত বালক, উড়ন্ত গাংচিল
কেন আমি আজ বিরহী হলাম, কেনই-বা অমিল?
.
কত’না আমি খেলেছি খেলা, ওই সবুজ মেঠোপথে
কত’না আমি দেখেছি মেলা, রাত শেষে আঁখিপাতে।
.
আজকে আমি অল্প দামী, নেই কোন সম্মান
সকলের মুখে গল্প আমি, নেই এতে অভিমান।

সত্য মনে বাঁচে

স্রষ্টার প্রতিবিম্ব ভাসে-আকাশে বাতাসে
সাধক খোঁজে তাঁরে, বন্ধ চোখে- সাঁজে
খাদক খোঁজে তাঁরে, সব অন্নের- আসে
তিনি তো অন্যায় নাশে, সত্য মনে বাঁচে!
.
যত কাছে অন্যায় রয়, তত কাছে তিনি রন
অন্যায় মিথ্যা অবকাশে, তিনি সদাই হাসে!
তাই'তো তিনি অদৃশ্য হয়ে, রন সৃষ্টির মাঝে
সত্য-ন্যায় প্রতিষ্ঠার, সকল মানবিক কাজে!
.
সৃষ্টির ক্ষুদ্র প্রাসাদে, কে- করে তাঁর তল্লাস
তিনি সৃষ্টির সর্ব-পানে, সাদরে দেন আভাস!
তিনি নহে ক্ষুদ্র নহে রুদ্ধ, তিনি এক অশেষ
তাঁর মাহাত্ম্য তাঁর সৌন্দর্যের নেই কোন শেষ!

একদিন আদলে সূর্যাস্ত হবে

একদিন আদলে সূর্যাস্ত হবে, তুমি অন্য কাউকে ফোন করতে গিয়ে ভুলক্রমে আমাকে ফোন দিয়ে ফেলবে। “বলবে এই তুমি কোথায়”, হয়তো কোন বন্ধুকে এমন করে বলবে; অতঃপর ভুলক্রমে আসা ফোনে এপাশে দাঁড়িয়ে আমি উত্তরে বলব; আমি তো তোমার জন্য বসে আছি সেই আজন্ম'কাল থেকে।

অগ্নি বাতাস

কাদামাটি দিয়ে নির্মিত আমার এই দেহের মধ্যে একটা নগরী আছে, যে নগরীতে সে এসেছিল সেদিন অভিসারে; করেছিল আমার অভিষেক, দূর করেছিল আমার নিঃসঙ্গতা আলতো হাসিতে আর আমি হয়েছিলাম পূর্ণ। সে ছিল আমার রাজ্যের কল্যাণী আর আমার মধ্যে ফুটিয়েছিল ন্যায়ের বাণী। নগরী পেয়েছিল অনাবিল শান্তির নব নব সাজ, সেবক'রা পেয়েছিল কাজ করার নতুন উচ্ছ্বাস।
আজ সে রাজ্যে বইছে অগ্নি বাতাস।

দু'জনার

এমন হতো যদি
দু'জন দু'ফোঁটা বৃষ্টি হয়ে
একই ঘাসের ডগায়
সকাল থেকে রাত অবধি
সূর্য স্নানে শুদ্ধ হতাম-
এমনটা হলে কেমন হতো সতী?


কেউ জানতো না কতটা গভীরে
তুমি আমাতে আর আমি তোমাতে
মিশে হয়েছি একাকার;
ঠিকি- সন্ধ্যা আঁধার এলে
দু'জন হতাম দু'জনার-অনুপ্রেরণার!

শিশু


মেঘের সাথে দোস্তি করে
রেখেছি আমার চোখ
দেখি সবখানে শুধু তুমি তুমি
আর তোমার অপলক!
.
হয়তো তুমি দেখছ আকাশ, পাখিদের কলরব
আমিতো তোমার সবকিছুতে, নিয়েছি অনুভব!
.
তুমি হয়তো টের পাওনি, পাওনি কোন সারা
আমিতো তোমার রোজ নিশিতে,
আকাশে হয়েছি তারা!
.
তুমি যখন উদাসীন হয়ে, বসে ছিলে প্রাঙ্গণে
আমিতো তখন নীরবে এসে;
হেসেছি; তোমার সনে!
.
বুঝতে পারোনি তুমি হয়তো
খেয়াল করোনি কিছু
আমি তোমার সঙ্গে থেকে
খুব হয়েছি শিশু!
.
যেখানেই তোমার রেশ পেয়েছি
সেখানে-ই হয়েছি হাজির,
তোমার গুণের শত পদচিহ্নের
পেয়েছি আমি নজির!

Sunday, 3 March 2019

দেখাযায়

একদিকে মরছে মানুষ ঝাঁকে-ঝাঁকে
অন্যদিকে গড়ছে কেউ প্রাসাদ,
অসহায়রা সব লড়ছে একটু বাঁচতে
সাহসীরা পেতেছে মৃত্যুর ফাঁদ।
.
কেউ পড়াশোনায় জীবন গড়তে
নির্ভাবনা রাতদিন,
কেউ নিজের আধিপত্য বিস্তারে
হয়েছে সম্পূর্ণ হীন।
.
কেউ প্রথায় কেউ কথায় আজ অন্ধ
কেউ বলে তুই মন্দ,
কেউ বলে আমি মানুষ, নেই সন্দেহ
এ নিয়ে রাতদিন দ্বন্দ্ব।
.
পৃথিবিজুড়ে ছড়িয়েছে লাশের গন্ধ
কে ভালো কে নন্দ,
সব প্রশংসা-ই আজ তোমাদের বৃথা
শাস্ত্র খুলে দেখো,
কোরআন বাইবেল মনুসংহিতা।
.
ধর্ম নয় তোমাদের প্রার্থনার নাম
ধর্ম দিয়েছে মানুষের দাম,
সে ধর্ম আজ তোমরা কু'কর্ম করে
করেছ লাজুক_বদনাম।
.
মসজিদ মন্দিরে আল্লাহ ভগবান নেই
তাঁরা রয়েছেন হৃদয়ে,
অন্যায় রোধে সত্য বোধে মানুষের
থাকেন তাঁরা সদয়ে।
.
আজ আমরা যে যার মতো সুখ গুনছি
বিশ্বজুড়ে যখন অন্যায় অসুখ,
এভাবে আমাদের ইবাদতসহ সব ধন
হবে-ই, হবে বিধ্বংস এ যুগ।

রংপুর


ফুলে ফুলে অনুকূলে শত ফুল গাছ
আকাশের নীলিমায় নব নব সাজ
মেঘেদের সাথে খেলা করছে পাখি
বৃক্ষের চূড়ায় বসে, মৃদুসুরে ডাকি!
.
নিকটে অতীতের জমিদার বাড়ি
খুব পাশে হাঁটছে সুন্দরী নারী,
শিশুদের কোলাহল উজ্জ্বল হাসি
যে হাসিতে আমি খুব অভিলাষী!
.
সামনে বসে আছে প্রবীণের দল
জীবনের কথা বলে, দুঃখ অতল,
মুখে মুখে বিদ্রোহ আর বিক্ষোভ
আড্ডার জীবনে তাঁরা নিয়োগ!
.
মুখে হাসি আড়ালে দুঃখ রাশি
দেখছ তোমরা, আমায় সন্ন্যাসী
সত্য বলতে আমি-ই অবিশ্বাসী
সুখ বলতে কিছু নেই আয়েশী!
.
আমার কাছে যতনে বেদনা আছে
যা প্রাপ্তি করতে আমি হয়েছি দোষী,
আমার কাজে আমার কথায় আসি
আমি হতে চাই এক সত্যান্বেষী!

প্রিয়

তুই থাকিস দূর দেশে, নির্জনে
কত কথা ঝড় তোলে, এই প্রাণে!
কত নিশি খুব বেশি, আদলে
তোর কথা নীরবতায়, যায় বলে!
.
আমি একা থাকি দূরে, আনমনে
তোর কথা ভালোবাসা, যতনে!
পুষে রাখি তোকে পাখি, শয়নে
ভালোবাসা এই মনে- প্রভু জানে!
.
আমি ছেলে আঁখি মেলে, আযানে
তোকে খুঁজি আমি রোজি, সকালে
ভয় পেলে আমি ছলে, তুই এলে
হাসি ফোটে আমারি, তুই ছুঁলে!
.
ভালোবাসি তোকে বেশি আড়ালে
মরে যাব তুই দূরে হারালে!