Saturday, 28 September 2019

কোতল

তার শিশুসুলভ স্বভাব সবসময়
তার পাগল পাগল মন
তার উদাসী সে দু’চোখ 'আমায়'
খুঁজে বেড়ায় সারাক্ষণ।
তার লাজুক লাজুক হাসি, যেন প্রলয়
করে আমায় বানভাসি,
তার এলোমেলো কথায়, প্রকাশ পায়
ভালোবাসা রাশি রাশি।
তার শাড়ির আঁচল চোখের কাজল
বড্ড বেশী লোভনীয়,
এক পলকে ক'রে আমায় 'কোতল'
বোঝনা তোমরা কেহ।


Saturday, 21 September 2019

তুমিহীন আমি মৃত প্রায়

হয়েছি একটু রাগান্বিত
তাই বলে কি করবে বঞ্চিত
তোমার ভালোবাসা থেকে?

আরে তুমিই তো আমার সব
সকাল সন্ধ্যা আমার বুকে
শুধু তোমার কলরব।

এভাবে কেউ দূর করে
মনের মানুষটাকে
যে মানুষটা তোমায় সারাক্ষণ
খুব স্মরণে রাখে।

তুমিহীন আমি মৃত প্রায়
অভিমান ভেঙে কাছে আয়,
ডাকছি তোমায় করুণ কণ্ঠে
আয় রে সখী আমার প্রান্তে।

সহায়

ছন্নছাড়া পাগলপারা মানুষের ঢল
এদিক সেদিন খুঁজে বেড়াচ্ছ শান্তি
তৃষ্ণায় হৃদয় আজ- কাতর অতল
জীবন তরী বহুপদ পেড়িয়ে ক্লান্ত-

তবু মুক্তিরপথ খুঁজছি শূন্য বাহুবল
এমতাবস্থায় সবার আত্মা মৃত প্রায়
জীবিত হতে লাগবে সত্যের সুফল,
যে 'সত্য' মানুষের প্রীতি করে উদয়।

সেই 'সত্য' নিয়ে এসেছি আমরাই
অন্যায়ের নাশ করে আমরা সবাই
হবো এক পরিবার, হবো ভাই ভাই
একে-অপরের কাছে, হবো সহায়।

হবো এক আল্লাহ (ঈশ্বর) অনুগত
এক সৃষ্টির সেবক আমরা যে সবাই।

এই কি জীবন?

বিলাসিতায় আত্মা কলুষিত
দেহ সচল তবু যেন মৃত-
বাঁচার তাগিদে কত অবাঞ্ছিত
মোহ দ্বারায় হবে দলিত।

এই কি জীবন?
এই কি বেঁচে থাকা
যেখানে সত্য বর্জিত
আর মিথ্যা পুষে রাখা।

আর কতকাল মানুষ হয়ে
পশুর জীবন বয়ে বেড়ানো?
লজ্জা কি লাগেনা লাথি খেয়ে
যায় না কি এই সমস্যা এড়ানো?

আছে তো সব সমাধান
তবু কেন হয়ে আছি নিষ্প্রাণ?
চেতনায় কি ঝংকার দেয় না
মানুষ হয়ে যে হচ্ছো অপমান।

Monday, 26 August 2019

ঈশ্বরী

তার ঘনকালো চুল
তার নাকে নাক ফুল-
তার কপালের টিপ আর
ঠোঁটে কালো তিল,
দেখে যেন মনে হয় বারবার
সে ঈশ্বরী, দেবীর সামিল।
তার পরনে নীল শাড়ি
তার হাতে কাঁচের চুরি,
তার মায়াবী দু'চোখ যেন
চাঁদের সহচরী।
তার শরীরের ঘ্রাণ আর
উদাসী সে হাসি,
দেখে যেন মনে হয় সবার
সে পূর্ণিমা শশী। 

পাগলপারা

আজ সময় ফুরিয়ে যায়, তুমি ছাড়া
তুমি বিহীন এই আমি, এক সাহারা,
লাগে না ভালো সব নিকষ কালো
আমি মানে আজ শুধু- তুমি হারা।
কত একলা থেকেছি আমি নির্জনে
কত কথা বলেছি আমি আনমনে।
আজ তুমি না এলে, সব ছন্নছাড়া
অসীম শূন্যতায় কাঁদে আমার পাড়া,
ওগো ফিরে আসো, ফিরে আসো
তুমি ছাড়া এই আমি, পাগলপারা।
কত স্বপ্ন দেখেছি আমি স্বাদ করে
তুমি ফিরে না এলে, তারা যায় মরে।

স্বপন

তুমি রয়েছো যেথায় প্রভু থাকে
আমার মনের খুব গভীরে
প্রভুর পরে তুমিই তো আমাকে
তোমার করেছো প্রিয়জন-
সবুর করো আমি ফিরব নীড়ে
তোমার হতে চিরতরে।
তুমি হবে আমার হৃদয়ের ঘরে
প্রিয় বন্ধু- খুব আপন।
তাইতো আমি দেখি অগোচরে
আজ স্বচ্ছলতার স্বপন। 

Thursday, 6 June 2019

পথভ্রষ্ট

অন্তর দৃষ্টি বন্ধ ক'রে, সারাবেলা অন্তরে
লালন করে চলছো সবে মোহ,
চতুর্দিকে মানুষ হচ্ছে লাঞ্ছিত- অকাতরে
সে খবর রাখছো তোমরা কেহ?

যে যার মতো বাঁচ'ছ দিনভর, পাপাচারে
অন্যায়ে মাথা নত সবার।
এমন ক'রে চলবে কত আর, কত হাহাকারে
হৃদয়ের দৃষ্টি খুলবে তোমার?

নবীন বিপথগামী প্রবীণ ক্ষতিগ্রস্ত, সুপথভ্রষ্ট
মুখের কথায় আঘাত ক'রে, হচ্ছ নিকৃষ্ট।

উৎকৃষ্ট হতে সবে আকুল, সৃষ্টি সবার জরাগ্রস্ত
মানবতার চরম অবমাননা, নিষ্ঠুরতায় অভ্যস্ত।

সুস্থ সমাজ আজ অসুস্থ তটে, ময়লা মাঠে স্তুপ
দূষণ ঘ্রাণে মৃত্যুশয্যায়, তুমি আমি-আমরা খুব।

অন্যায়কারী

ঈদ আসে ঈদ চলে যায়, ফিরে আসে ঈদ
বিচারব্যবস্থাহীন দাঁড়িয়ে, অগণিত মসজিদ।

ইমাম মুসল্লী হয়েছেন এখন, নেতার পাদুকা
যারা ছিল শ্রেষ্ট- তারা আজ, করছেন ভিক্ষা।

যে মুসল্লী ছিল সমাজে, ন্যায়ের ধ্বজাধারী
সেই মুসল্লী আজ সমাজে, বড় অন্যায়কারী।

অন্যের সম্পদ আর অধিকার, তারা হরণ ক'রে,
ইমাম হয়েছে ধর্ষক আর মুসল্লী হয়েছে পাপাচারী।

কালের গর্ভে লুপ্ত হয়েছে, ধর্মের প্রকৃত শিক্ষা
তাই তো আজ মানুষ মনে, লালসা আর কুশিক্ষা।

একে অন্যকে সহ্য করতে পারে না, ক্ষমতার বাহাদুরি,
নিজের ভালোটা প্রথম ভাগে, অন্যের বেলায় ছলচাতুরী।

কেউ সত্য কথা বললে পরে, অধার্মিক হয় জনসম্মুখে
মিথ্যা বলে তাদের কেউ লালন করলে, তারা থাকে সুখে।

পীড়িত হয় অসহায় মানুষ, প্রশংসিত হয় অহংকারী
আমি সাধারণ তবু বলে যাই, এরাই অধিক স্বৈরাচারী।

Monday, 3 June 2019

মুড়ে

আমাকে আঘাত করেছ যত,
অকালে বর্ষা নেমেছে তত,
অবিরাম স্রোতে ভিজে গিয়েছে বালিস,

যত্নে লালন করা চিন্তাগুলোকে
টুকরো টুকরো করে,
অনুভূতি গুলো চলে গিয়েছে সব,
পাথর হয়ে বহুদূরে।

সময়ের ডাকে হুঁশ ফিরেছে যখন
বৃথা চেষ্টা করেছি তা ভোলার,
কখনো পেরেছি, আবার কখনো বা
সে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরেছে আমায়।

মনের সম্পর্কগুলোতে, নীরবতার মতো
সহ্য এসেছে এ ক্ষতের ভীড়ে।
উপাসনাগৃহ তাই আজও ফাঁকা হয়ে,
পড়ে রয়েছে স্বপ্নের নীল গালিচায় মুড়ে।

প্রশ্ন আছে হাজার

দিনগুলো সব অন্যকারো
রাতগুলো থাক আমার,
ক্লান্ত চোখে চেয়ে দেখি,
প্রশ্ন আছে হাজার।

ভীড়ের মধ্যে হারিয়ে ফেলেও
নতুন করে খোঁজা।
চলতে চলতে বুঝতে পারি,
এ পথ নয় সোজা!

বুকে আমার ব্যথা ভীষণ
উষ্ণতা চায় শরীর,
জ্বর এসেছে হঠাৎ করেই
অখ্যাত এক কবির।

গন্ধ ছোটায় হাসনুহানা
রাতের পল্লি পাড়ায়,
সময় তখন থমকে থাকে
শুধুই ভালোবাসায়।

আড়ালে

অনেক দিনের স্বপ্ন গুলো
আঘাতে আঘাতে আহত,
দেখছ তোমরা বেঁচে আছি
আসলে তো আমি মৃত।

বেলা অবেলায়, হেলায়- কত
হয়েছি নীরবে মর্মাহত,
তবু মুখ থেকে হয়, হাসি নির্গত
যার অন্তরায় ব্যথা শত।

আলোয় রাঙা হৃদয় ভাঙা, যত
মানুষের ভীড়ে- নত।
তোমরা মানুষ, সদা সুখ সঞ্চিত
আড়ালে আমি নিহত।

Friday, 31 May 2019

তুমি একজনই এ পৃথিবীতে

তোমার কপালের কালো টিপ, দেখতে আমি উদগ্রীব
তুমি দেখতে সুনীল আকাশ, সন্ধ্যা বেলায় প্রদীপ।
মুখখানা তোমার মায়াবিনী, চোখ দু'টো খুব নীল নীল
নীল শাড়িতে তোমায় খুব, লাগে গো প্রিয় সুশীল।

তোমার অমন এলোমেলো চুল, গালে কালো তিল
তোমার সাথে আছে ঐ, রাতের অনেক মিল,
অন্ধকারাচ্ছন্ন বিস্মৃত আকাশ মাঝে যেন এক চাঁদ
তুমি দেখতে মা'য়ের মত, প্রেমময়- অবাধ।

তোমার সামিল নেই হয়তো, এ সৃষ্টিতে আর কেউ
তুমি একজনই এ পৃথিবীতে,,,

আবদার

হৃদয় খুলে- আমি বোধ ভুলে
এমন কিছুই চাই নি-
চেয়েছি শুধু রোজ সন্ধ্যা হলে
স্নেহ প্রেম ভালোবাসা।


রাত এলেই অন্ধকারে এ ছেলে
ভীষণ ভয় পেলে-
তোমরা ছাড়া- হয় খুব অসহায়
হারায় শব্দ ভাষা।

ছিলে যারা এক বুক ভরা- সুখ
তমা'বিনে আজ অসুখ-
ভীষণভাবে চেপে বসেছে- দুখ
শুঁকিয়ে কাঠ গাল মুখ।

যদি পার সবে, তবে এসে যেও
ভালোবেসে যেও কিছুক্ষণ
খুব অসুস্থতায় বিষাদে আজ মন
পাশে প্রয়োজন- প্রিয়জন।

অকপটে

চোখ মেলে দেখো সবে, কি হচ্ছে ভবে
পত্রিকার পাতায় পাতায়, লাঞ্ছিত সবে,
অনাচারে নিপীড়নে, লাখো মানুষ মৃত
মানবতা শুধু কথায়, বাস্তবে কলুষিত।

ফুটপাতে শুয়ে আছে, নারী শিশু যুগল
অনাহারে পঁচা খাবার খাচ্ছে, সে দুর্বল,
রাজার হাতে প্রজা যেভাবে, হয় পীড়িত
সেইভাবে মানুষ আজ, সর্বত্র পদদলিত।

সাধারণ মানুষের সম্পদ, ধনীরা সবে লুটে
বসে বসে খায় তারা, মরে অসহায় ঘুটে,
গৃহহীন রাত কাটে, অসহায়ের এই সমতটে
মোরা সবে দেখি সে'দৃশ্য, রোজ অকপটে।

Thursday, 16 May 2019

আমার অধিকারে

ও তোকে বাস্তবতায় ছোঁয়
শরীর দিয়ে আদর করে,
জড়িয়ে ধরে, ইচ্ছে হলে
তোর অধিকারে।

আমি তোকে শব্দ দিয়ে ছুঁই
কলমের কালিতে আদর করি,
আঁকড়ে ধরি কাব্যি হলে-
রোজ মাঝরাতে,,,
শুধু- শুধুই আমার কল্পনাতে
আমার অধিকারে।

শুদ্ধতার

যুগল চোখের ভূগোল দেখা সকল বেলায় সত্য না,
ব্যথার বন্ধু মরফিন ও যে সুস্থ কালের পথ্য না।
কিছু হাসি কষ্টে আসে, কান্না মাঝে ও সুখ থাকে,
কারো কারো দেহের ভেতর সাড়ে তিন হাত বুক থাকে।

তোমরা যেটা নয় দেখেছো আমার কাছে সেটাই ছয়,
সবার দেখাই সমান হবে হিসেব কিন্তূ এটাই নয়।
তোমরা যাকে ভুল বুঝেছো, হয়তো জীবন রুদ্ধ তার,
অন্ধকারের ভাগ না নিয়ে কিসের দাবি শুদ্ধতার?

মুক্তি কর হে দান

ভাতের বাষ্প উড়ছে মানে, তৈরী হচ্ছে অন্ন
মানুষরূপী জীবগুলো সব, অন্যায় করে বন্য।
সৃষ্টির সেরা- কেউ নেতা, কেউ আবার কীট
কেউ আবার মানুষ'কে মারতে, সদা উদগ্রীব।
.
ক্ষুদ্র স্বার্থে রেহাই পায় না, প্রবঞ্চনা অবাধ,
সত্য বলায় হয় মৃত্যু দণ্ড, অন্যায়ে উন্মাদ।
সবার মাঝে বসত করে, ইবলিস শয়তান,
বেশভূষার অন্তরায় হয়, ‘আল্লাহ’ অপমান।
.
এক আদর্শ এর নানা ফেরকা, জাতি খণ্ড খণ্ড
ধর্মের বেশভূষা ধরে-আছে, সমাজের সব'ভণ্ড।
.
যে যত কথায়-সাধু, সে তত আজ কুলাঙ্গার,
সকল কর্মে-মানব ধর্মে, সেই আজ স্বৈরাচার।
বিশ্ব জুড়ে উদবাস্তু আর, নিঃস্ব মানুষের প্রাণ,
ত্রাহিসুরে বলছে সবাইকে, মুক্তি কর হে দান।

ইচ্ছে

তুমিও মানুষ আমিও মানুষ, তফাৎ শুধু গঠনে
তোমার হাসি চাঁদের আলো, ঝড়ে আমার উঠোনে।

আমি মেঘ খুব আবেগ, সামান্য ব্যথায় কাঁদি,
তোমায় ভালো'বাসি বলে, বেলা অবেলায় সাধি।
তোমার পাশে হয় যেন গো, ‘তনু’ আমার সমাধি,
তোমার কথায় বলি প্রিয়, ভোর হতে রাত অবধি।

ফুটপাতে

ফুটপাতে থালা হাতে, কত শিশু- বুড়ো দাঁড়িয়ে
করুণ সুরে চাচ্ছে সাহায্য, হাত দু'খানা বাড়িয়ে।
কেউ করছে তুচ্ছতাচ্ছিল্য কেউ দিচ্ছে তাড়িয়ে
কেউ দিচ্ছে দুএক টাকা, অহংকারে বুক ফুলিয়ে।

অসহায়; অনাহারী ‘মা’ জননী, ছেড়া শাড়ি পড়ে
ব্যথার সুরে পাতছে হাত, দু'বেলা খাওয়ার তরে।
কত অবুঝ শিশু- কেউ ছেলে আবার কেউ মেয়ে,
বস্তুহীন খাদ্যহীন নিত্যদিন, তোমাতে থাকে চেয়ে।

তোমার দামী জামা-চুলে তেল আর হাতে আইক্রম
যা দেখে তারা নীরবে কাঁদে, ভীষণ কষ্টে প্রতিদিন।
তুমি আমি আমরা সবে-এ ভবে, থাকছি মোহে মত্ত
চোখের সামনে মোদের মত, মানুষ হচ্ছে নিষ্পেষিত।

মানবতা নৈতিকতা উদারতা, সবকিছু আমরা ভুলেছি
মানুষ হয়ে মানুষে রে আজ, গৃহহীন আমরাই করেছি।
নানা স্বার্থে বিগত যত রাত্রে, যত গৃহে আগুন দিয়েছি
ততটা আজ মানুষ বিপর্যয়ে, যতটা আমরা ছিনিয়েছি।

হোক

তোমার এলোমেলো চুল- কপালে'র টিপ,
দু'হাতে দুগালে'র ভার আর মায়াবী দু’চোখ
দেখে যদি আমার মরন হয়, তবে তা হোক।

নিথর তোমার ও লালচে ঠোঁট আর কপালের ভাজ
বলে দেয় কিছু গোপন কথা, বুঝে নেয় হৃদয় আজ।

ভুমি কাপে

সকলের মুখে কত, বেনামী প্রলাপ
সারাক্ষণ ছড়িয়ে যায়, সঞ্চিত পাপ,
হৃদয়ের মন্দিরে আজ, স্বার্থের বাস
মানুষের ধ্যানে- জ্ঞানে, হীন উচ্ছ্বাস।
.
মানবতাহীন সমাজে, যাদের বসবাস
তাদের কাজে শুধু- মানুষ হচ্ছে গ্রাস।
এ কেমন জগতে আমি, বেঁচে আজ
যেদিকে তাকাই দেখি, মরনে'র সাজ।
.
ধ্বংস হবে কি তবে, আমাদের গৃহ-ঘর
বারুদের গন্ধ ছড়ায়, বাতাসের ভিতর।
তোমরা কি ঘুমিয়ে আছ, ভূমির উপর?
জেগে উঠে দেখো সবে, ভুমি কাপে-
ধ্বংস লীলায়.... থরথর।

Sunday, 7 April 2019

বৃষ্টি

ছড়িয়ে থাকা শুকনো পাতা
হাওয়ায় নড়ছে অল্প,
অাকাশটা অাজ মেঘেই অাঁধার
শুনবে কি তার গল্প?
গান বেঁধেছি সুর যে পাইনা,
বাইরে রাখা দৃষ্টি
ভাবছি কখন নামবে অাবার
জল হারানো বৃষ্টি?

নিশীথে

নিশীথের আকাশে চেয়ে আছি বসে
কত তারা ক্লান্তিতে পড়ে গেল খসে!
শিশিরের জল'টুকু ঘাসে যায় মিশে
শরীরের বল'টুকু যেন বিবর্ণ নিমিষে!

আলামিন আবেদিন?

তোমরা খুঁজিলে ধর্ম সদা
বেশভূষারই মাঝে,
মিথ্যা করিলে লালন সদা
সত্য করিলে বাজে।

আল্লাহ বলেন ধর্ম সদাই
সৃষ্টিতে ছড়িয়ে থাকে,
তুমি কোন স্বার্থে বল ভাই (মোল্লা)
ধর্ম তোমার কাছে।

নবী রসূলের জীবনী যেথায়
সংগ্রাম তথা ত্যাগী,
বর্তমানে তা আজ প্রার্থনায়
কেন হলো অন্তর্মুখী।

কে করিল এমন বিচিত্র
ধর্মের অনাবিল রূপ?
যে ধর্ম করেছিল আবর্তন
মানবজাতির সুখ।

একটু দাঁড়ান একটু দেখুন
কেন মানুষ লাঞ্ছিত?
যে জাতির ছিল পৃথিবীতে
বিজয়ের নেতৃত্ব।

সে জাতি কেন আজ মার খাচ্ছে
দিনের পর দিন?
প্রশ্ন কি জাগে না, তোমাদের মনে
আলামিন আবেদিন?

প্রেমপ্রলাপ

ভিজছি রোজ, প্রতিনিয়ত জলে
আশকারা পাওয়া কণ্ঠের ফোনকলে।
বিঁধছি রোজ, অনুভূতিদের তীর,
ক্ষত-বিক্ষত, হয়েছি চৌচির।


বাসছি রোজ, বাকি যতোটা ভালো
করছি খুব ছটফট, এলোমেলো।
হচ্ছে রোজ দেখা, শুধু ঘুমে ঘুমে
পিষছে তোর আবৃতি খুব প্রেমে।

হাতটা শুধু চাইছে একটা হাত,
নামতে চাইছে ঝড় বা জলপ্রপাত।
পুষছি যেই শব্দগুলো মনে
"বলবো" রোগ বাধছে অকারণে।

এই প্রেমের শেষটা কবে শুরু?
হাত ধরা আর হেঁটে যাওয়া পথ সরু।
সেই তবে কবেকার কাছে পাওয়া
বেনামী সব চিঠিদের আসা যাওয়া।

প্রেম এসে রোজ বসছে বারান্দায়,
প্রলাপ বকেই আড্ডা খুব জমায়।
আমার গায়েও রোমান্টিক হাওয়া লাগে,
প্রেম মাখি রোজ স্নানেতে যাওয়ার আগে।

বলাই হয়নি তোকে, সব ভুলে গেছি-
একটা চুমু শরীরে তুলেছে ঝড়।
আবহাওয়া খুব দামী, তোর ছোঁয়াটাও
ভেঙেছে পৃথিবী চুরমার সব ঘর।

আদরের পাশে নাম রেখে দিস আমার,
কখনো যদি রাখতে ইচ্ছে করে।
মন থেকে দেহে পৌঁছায় অনুভূতি,
মিষ্টিজাতীয় হাসিদের তোলপাড়ে।

কেশবতী কি নাম দিয়েছি সাধে?
চোখেমুখ সব আটকে রেখেছে চুল,
চোখ বুজেও খুঁজে পেয়েছি তোকে
তোর গন্ধ শাব্দিক নির্ভুল।

তোর পছন্দে কবি হয়ে যদি ওঠা,
তবে এই মোর প্রথম নিবেদন।
প্রিয় আঁড়ি এটা আদরের তোকে লেখা-
আগলে রাখার করিস আয়োজন।

উৎসব

কুয়াশা ভেজা ব্যাকুল ফসল
জ্ঞানে-অজ্ঞানে।
কৃষকের বাড়িতে নেমন্তন্ন
দুঃখ-মোচনে।
সোনালি রূপে হলদেমুরত
অপরূপ-সাজ।
মৌ মৌ গন্ধে হেমন্তের
উৎসব আজ।

পাশে চাই

সবার পাশে থাকছো তুমি
আমার পাশে কেন নয়?
সবার আশে মিশছো তুমি
আমার শ্বাসে ভয়- হয়?

সবার মাঝে তোমার লীলা
আমার প্রতি কেন হেলা?
সবার কথায় সুরভী ছড়াও
আমার প্রতি কেন জরা?

এমন করে আর কত ভোর
রবে দূরে বসে?
আমারতো বসয় ছুঁয়ে ঘোর
সবে যায় খসে।

হাতের কাছে পাই না তোমায়
মনের কাছেই যেটুকু-পাই,
মন থেকে এবার- বাহির পানে
বন্ধু তোমায়- পাশে চাই।

Thursday, 21 March 2019

নিয়তি

আহত হৃদয় জানে শুধু- বিগত দিনের ক্ষত
কতটা আমি একলা মানুষ, কতটা আমি নত।
.
বেলা অবেলায় ভীষণ হেলায়, চলে যায় কত ব্রত
স্মৃতি-জুড়ে আজ শুধু-ই ক্ষত, প্রীতিহীন শত শত।
.
আমি তো ছিলাম দুরন্ত বালক, উড়ন্ত গাংচিল
কেন আমি আজ বিরহী হলাম, কেনই-বা অমিল?
.
কত’না আমি খেলেছি খেলা, ওই সবুজ মেঠোপথে
কত’না আমি দেখেছি মেলা, রাত শেষে আঁখিপাতে।
.
আজকে আমি অল্প দামী, নেই কোন সম্মান
সকলের মুখে গল্প আমি, নেই এতে অভিমান।

সত্য মনে বাঁচে

স্রষ্টার প্রতিবিম্ব ভাসে-আকাশে বাতাসে
সাধক খোঁজে তাঁরে, বন্ধ চোখে- সাঁজে
খাদক খোঁজে তাঁরে, সব অন্নের- আসে
তিনি তো অন্যায় নাশে, সত্য মনে বাঁচে!
.
যত কাছে অন্যায় রয়, তত কাছে তিনি রন
অন্যায় মিথ্যা অবকাশে, তিনি সদাই হাসে!
তাই'তো তিনি অদৃশ্য হয়ে, রন সৃষ্টির মাঝে
সত্য-ন্যায় প্রতিষ্ঠার, সকল মানবিক কাজে!
.
সৃষ্টির ক্ষুদ্র প্রাসাদে, কে- করে তাঁর তল্লাস
তিনি সৃষ্টির সর্ব-পানে, সাদরে দেন আভাস!
তিনি নহে ক্ষুদ্র নহে রুদ্ধ, তিনি এক অশেষ
তাঁর মাহাত্ম্য তাঁর সৌন্দর্যের নেই কোন শেষ!

একদিন আদলে সূর্যাস্ত হবে

একদিন আদলে সূর্যাস্ত হবে, তুমি অন্য কাউকে ফোন করতে গিয়ে ভুলক্রমে আমাকে ফোন দিয়ে ফেলবে। “বলবে এই তুমি কোথায়”, হয়তো কোন বন্ধুকে এমন করে বলবে; অতঃপর ভুলক্রমে আসা ফোনে এপাশে দাঁড়িয়ে আমি উত্তরে বলব; আমি তো তোমার জন্য বসে আছি সেই আজন্ম'কাল থেকে।

অগ্নি বাতাস

কাদামাটি দিয়ে নির্মিত আমার এই দেহের মধ্যে একটা নগরী আছে, যে নগরীতে সে এসেছিল সেদিন অভিসারে; করেছিল আমার অভিষেক, দূর করেছিল আমার নিঃসঙ্গতা আলতো হাসিতে আর আমি হয়েছিলাম পূর্ণ। সে ছিল আমার রাজ্যের কল্যাণী আর আমার মধ্যে ফুটিয়েছিল ন্যায়ের বাণী। নগরী পেয়েছিল অনাবিল শান্তির নব নব সাজ, সেবক'রা পেয়েছিল কাজ করার নতুন উচ্ছ্বাস।
আজ সে রাজ্যে বইছে অগ্নি বাতাস।

দু'জনার

এমন হতো যদি
দু'জন দু'ফোঁটা বৃষ্টি হয়ে
একই ঘাসের ডগায়
সকাল থেকে রাত অবধি
সূর্য স্নানে শুদ্ধ হতাম-
এমনটা হলে কেমন হতো সতী?


কেউ জানতো না কতটা গভীরে
তুমি আমাতে আর আমি তোমাতে
মিশে হয়েছি একাকার;
ঠিকি- সন্ধ্যা আঁধার এলে
দু'জন হতাম দু'জনার-অনুপ্রেরণার!

শিশু


মেঘের সাথে দোস্তি করে
রেখেছি আমার চোখ
দেখি সবখানে শুধু তুমি তুমি
আর তোমার অপলক!
.
হয়তো তুমি দেখছ আকাশ, পাখিদের কলরব
আমিতো তোমার সবকিছুতে, নিয়েছি অনুভব!
.
তুমি হয়তো টের পাওনি, পাওনি কোন সারা
আমিতো তোমার রোজ নিশিতে,
আকাশে হয়েছি তারা!
.
তুমি যখন উদাসীন হয়ে, বসে ছিলে প্রাঙ্গণে
আমিতো তখন নীরবে এসে;
হেসেছি; তোমার সনে!
.
বুঝতে পারোনি তুমি হয়তো
খেয়াল করোনি কিছু
আমি তোমার সঙ্গে থেকে
খুব হয়েছি শিশু!
.
যেখানেই তোমার রেশ পেয়েছি
সেখানে-ই হয়েছি হাজির,
তোমার গুণের শত পদচিহ্নের
পেয়েছি আমি নজির!

Sunday, 3 March 2019

দেখাযায়

একদিকে মরছে মানুষ ঝাঁকে-ঝাঁকে
অন্যদিকে গড়ছে কেউ প্রাসাদ,
অসহায়রা সব লড়ছে একটু বাঁচতে
সাহসীরা পেতেছে মৃত্যুর ফাঁদ।
.
কেউ পড়াশোনায় জীবন গড়তে
নির্ভাবনা রাতদিন,
কেউ নিজের আধিপত্য বিস্তারে
হয়েছে সম্পূর্ণ হীন।
.
কেউ প্রথায় কেউ কথায় আজ অন্ধ
কেউ বলে তুই মন্দ,
কেউ বলে আমি মানুষ, নেই সন্দেহ
এ নিয়ে রাতদিন দ্বন্দ্ব।
.
পৃথিবিজুড়ে ছড়িয়েছে লাশের গন্ধ
কে ভালো কে নন্দ,
সব প্রশংসা-ই আজ তোমাদের বৃথা
শাস্ত্র খুলে দেখো,
কোরআন বাইবেল মনুসংহিতা।
.
ধর্ম নয় তোমাদের প্রার্থনার নাম
ধর্ম দিয়েছে মানুষের দাম,
সে ধর্ম আজ তোমরা কু'কর্ম করে
করেছ লাজুক_বদনাম।
.
মসজিদ মন্দিরে আল্লাহ ভগবান নেই
তাঁরা রয়েছেন হৃদয়ে,
অন্যায় রোধে সত্য বোধে মানুষের
থাকেন তাঁরা সদয়ে।
.
আজ আমরা যে যার মতো সুখ গুনছি
বিশ্বজুড়ে যখন অন্যায় অসুখ,
এভাবে আমাদের ইবাদতসহ সব ধন
হবে-ই, হবে বিধ্বংস এ যুগ।

রংপুর


ফুলে ফুলে অনুকূলে শত ফুল গাছ
আকাশের নীলিমায় নব নব সাজ
মেঘেদের সাথে খেলা করছে পাখি
বৃক্ষের চূড়ায় বসে, মৃদুসুরে ডাকি!
.
নিকটে অতীতের জমিদার বাড়ি
খুব পাশে হাঁটছে সুন্দরী নারী,
শিশুদের কোলাহল উজ্জ্বল হাসি
যে হাসিতে আমি খুব অভিলাষী!
.
সামনে বসে আছে প্রবীণের দল
জীবনের কথা বলে, দুঃখ অতল,
মুখে মুখে বিদ্রোহ আর বিক্ষোভ
আড্ডার জীবনে তাঁরা নিয়োগ!
.
মুখে হাসি আড়ালে দুঃখ রাশি
দেখছ তোমরা, আমায় সন্ন্যাসী
সত্য বলতে আমি-ই অবিশ্বাসী
সুখ বলতে কিছু নেই আয়েশী!
.
আমার কাছে যতনে বেদনা আছে
যা প্রাপ্তি করতে আমি হয়েছি দোষী,
আমার কাজে আমার কথায় আসি
আমি হতে চাই এক সত্যান্বেষী!

প্রিয়

তুই থাকিস দূর দেশে, নির্জনে
কত কথা ঝড় তোলে, এই প্রাণে!
কত নিশি খুব বেশি, আদলে
তোর কথা নীরবতায়, যায় বলে!
.
আমি একা থাকি দূরে, আনমনে
তোর কথা ভালোবাসা, যতনে!
পুষে রাখি তোকে পাখি, শয়নে
ভালোবাসা এই মনে- প্রভু জানে!
.
আমি ছেলে আঁখি মেলে, আযানে
তোকে খুঁজি আমি রোজি, সকালে
ভয় পেলে আমি ছলে, তুই এলে
হাসি ফোটে আমারি, তুই ছুঁলে!
.
ভালোবাসি তোকে বেশি আড়ালে
মরে যাব তুই দূরে হারালে!

Monday, 18 February 2019

চিরকুট

খুব অল্প সময়ে আমাদের পরিচয়, অনেক মলিন ব্যথা হয় বিনিময়, হয় খুব সযতনে ভালো লাগা সঞ্চয়, 
মনে ভয়, তবু কেন জানি লাগে জয় জয়! তুমি দেখতে ভালো- সূর্য আলো, কথায় তোমার ছন্দ ছড়ালো! 
এমন আমি আগেও দেখেছি, মনে মনে আনমনে হয়তো তোমায় কিছুটা লিখেছি!
শুনেছি ভালো লাগা থেকেই ভালোবাসা ভাষাহীন হয় উদ্ভাসিত, 
আমি রীতিমত অনেকটা আতঙ্কিত!
.
আমি জানি এটা আমার ভুল, অবশেষে হারাব বন্ধু হওয়ার বন্ধন কূল!
তুমি ভীষণ সতেজ, ভীষণ প্রকৃতি আমেজ, ভীষণ শুদ্ধ এক মেঘ-বালিকা!
যদি কথা বলি, সুদূরে ছুঁয়ে চলি, জানি তুমি- শুদ্ধই রবে, নব নব!
.
এই দিনগুলো যেন না হয় মলিন, কোন ক্রমে,
অযতনে ভুল ভ্রমে!
যদি দূরে চলে যাও আঁখি হয়ে যাবে নদী,
অশ্রু ঝরবে নিরবধি, হয়তো জীবন যাবে থেমে!
তুমি আমার কাছে অনেকটা দামী,
অনেকটা অনুভবে অবুঝ পাগলামী!
.
প্রভাতের ফুল তোমার এলোমেলো চুল,
“পুষ্প আর চন্দন থালায় যখন তুমি হেঁটে যাবে মন্দিরে,
তখন আমি হয়তো অনুগামী হয়ে রব বন্দী রে”!
কিছু প্রার্থনা হবে প্রভুর নিকট নিবেদন,
কিছু প্রার্থনা হবে আমার নিকট সমর্পণ!
তুমি মাথা নুয়ে, হয়তো পা ছুয়ে, করবে প্রণাম,
আমি বিস্মৃত হয়ে, হয়তো তোমায় করব সম্মান!
সে মধুময় সুন্দর ক্ষণ হয়তো ঈশ্বর দেখবে আসমানে বসে,
বলবে অনেক কথা আমাদের নিয়ে, আনায়সে হেসে হেসে!
.
শুনেছি মাতা দুর্গা দেবতার প্রাণ, মাতার ভালোবাসায় দেবতা হয় দয়া’মান,
কতটুকু সত্য কতটুকু কল্পনা, আমার জানা নেই! আমি শুধু জানি,
কন্যালোক হয় পিতাসহ স্বামীর কাছে রাণী! এটা অমলিন সত্য বাণী।
.
তোমার জীবন তেমন হয়নি পড়া, আপন মনে তোমার কি স্বপ্ন গড়া,
শুধু জেনেছি তুমি সহজ, দেখেছি তোমার সরলতা,
দেখেছি তোমার নীরবতা আমার কথার ভিরে,
আমি নীর হারা পাখি, উড়ে উড়ে ভবঘুরে অনেকের খোঁজ রাখি!
আমি দেখতে অসামান্য কালো,
চোখে মুখে লজ্জা ছলছল,
সুরতে সজ্জা পরিচিত ধুলো!
.
সেদিন আকাশে দক্ষিণা বাতাসে শুনেছি পাখিদের কলরব,
তাদের মুখে আনন্দ সুখে তোমারই অনুভব!
তুমি নাকি তাঁদের সঙ্গে কাটিয়েছ শৈশব,
তোমার নিয়ে তাঁরা আত্মাহারা তুমিই নাকি ওদের সব!
.
শুনেছি তোমার ভাই মিথুনের কথা,
সে নাকি তোমার তাজ্জব মিতা!
ছবি দেখে তার, আমি করছি ওর এই সমাচার,
সে বড্ড দুষ্টু তবে তার ভালো ব্যবহার-
আমি অনুভব করেছি ওর সংস্কার!
“দেখে তার মুখ লাগে প্রাণে সুখ,
দূর হয় দুখ, সে তোমার প্রিয় অসুখ”!
সত্য বলেছি কি আমি নন্দিনী?
আমার নির্ণয়ে সে অনেক স্মার্ট সচেতন ছেলে,
কথা তার যেমনই হয় না কেন, দৃষ্টিতে তার তোমার মায়া মেলে!
এমনটা আমার মনে হয়,
এটা আমার কোনো পদ্য নয়!
সে আসলেই একজন সুষ্ঠু-বিশিষ্ট লোক,
চোখে চোখ রেখে তুমি চেয়ে দেখো,
সে বড় হয়ে হবে -তোমার থেকে অনেক বড়লোক!
.
“মিথুন এক দুর্দান্ত বালক
উড়ন্ত তাঁর কদমে কদম
অফুরন্ত তাঁর ভালোবাসা
তোমার জন্য অবিরাম”!
.
সামান্য অভিমান মায়াভরা অভিধান সবটুকু মাতা-পিতা,
তুমি লক্ষ্মী তুমি নন্দিনী তুমি পুস্প তুমি অপরিচিতা!
“আঙ্কেল এর একটি ছবি দেখেছি, মুখে দেখেছি তাঁর মায়াভরা হাসি,
সত্যি করে বলতে পারি, সে তোমাকে বলে থাকে, মা তোকে খুব ভালোবাসি!
নানা কাজে স্পর্শকাতর সেই নুয়ে থাকা হাত,
তোমায় অনেক আদর করে,
বলে তুমি ঘুমিয়ে পড় মা-হয়েছে খুব রাত”!
.
“আন্টির সম্পর্কে এক জীবন বললেও হবে হয়তো কম,
তিনি এক হিমালয় স্নেহ-মায়া-মমতা অপার, তিনি অনুপম!
তোমার হাসিতে তিনি দুঃখ হারিয়ে ফেলে,
তোমার ভাষাতে তিনি সুখের আঁচল মেলে”!

“খুনসুটি অনুরাগ অদেখা অভিযোগ সব কিছু ভোলে
যখন তুমি শহর থেকে বাড়ি যাও কিছু না বলে!
তোমার হঠাৎ উপস্থিতি সুদূরে মিলায় সব অনুযোগ
তুমি তাঁর প্রিয় সুখ তুমি তাঁর প্রিয় চোখ”!
.
ফিরছি তোমার কথায়, তুমি অজানায় রয়েছ নীরবতায়,
তোমার সম্পর্কে আজ আর নয়,
কিছু তথ্য থাকুক গুপ্ত থাকুক সঞ্চয়!
সবশেষে তোমার জন্য এই ছোট উক্তি
আমার ভাষায় ছোট করে করিলাম মুক্তি!

“তুমি মানে সূর্যে অঙ্গে নিত্য দীপ্ত
তুমি মানে গভীর রজনীতে শালীন
তুমি মানে সৃষ্টি রঙে মানব মনে নুরী
তুমি মানে সবুজ লতায় চির অমলিন”!

Sunday, 17 February 2019

ভালোবাসা কলুষিত

ভালোবাসা নয় দু'জন ভালো থাকার নাম
কলুষিত করে সম্পর্ক_সমাজে হয়ে বদনাম!
ভালোবাসা মানে অবিনশ্বর জানে_ সুনাম
আপন সুখ গুটিয়ে_ অন্যের সুখ শিরোনাম!
.
ভালোবাসা মানব ভাষায়_অমলিন পদ্ম’জল
সে ভালোবাসা দানব নেশায় হয়েছে দুর্বল!
চোখে মুখে আমিত্ব সুখে_লোকে অসুখে ভরা
প্রকৃত ভালোবাসা ভাষাহীন_তবু তা শুদ্ধ’জরা!
.
আত্মাহীন সভ্যতায়_ভালোবাসা ভোগ্য পণ্য
হৃদয়ের প্রেম দামী হেম_ভেঙে হয়েছে চূর্ণ!
ভালোবেসেছিল যারা_ তারা আজ বিশ্বে
ভালোবেসে অনায়াসে উঠেছে তারাই শীর্ষে!
.
তোমরা যাকে ভালোবাসা বল_আসলে কি তা প্রেম?
স্বয়ং চিত্তে প্রশ্ন করে দেখো_তা প্রেম না শুধু খেলা!
ভালোবাসা মানবকে নিরাশ করে_ তবে করে শুদ্ধ
মোহিত ভালোবাসা মানবকে লুপ্ত করে_করে রুদ্ধ!
.
ভালোবাসা ভালোবেসে সুন্দর করে মানব আত্মা
যুগের লীলায় সম্মান বিলায়_প্রেম আজ ভোক্তা!
ভালোবাসায় চেতন হয় মন_ মৃত হয় অচেতন প্রাণ
কিছু কথায় কিছু ব্যথায়_হয় না তা কভু নির্বাসন!

Sunday, 10 February 2019

স্বপ্নঘোর

তোমায় কিনে দিবো লাল শাড়ি
তুমি করে থেকো না আড়ি,
তোমার শখ আমি পূরণ করবো
তুমি আসো আমার বাড়ি!
আমি তোমার নতুন বর
কিছুটা আনাড়ি!
.
পুকুর পারে দুপুর বেলা
করবো দু'জন স্নান,
গল্প হবে অল্প অল্প; হবে সুখের গান!
পাখিরা আমাদের দেখে, যদি করে অভিমান!
ক্ষমা চেয়ে নিবো মোরা; দিয়ে সম্মান!
.
বাড়ির উঠোনে বসে দু'জনে
কথা বলতে বলতে খাবো,
তুমি আমার পাতে মাছ দেবে_আর
আমি তোমার পাতে দেবো!
দু'জনের এমন ভালোবাসা
আকাশে ওড়াবো!

দৃষ্টিহীন

জীর্ণ দেশে দিনের শেষে
নামে সন্ধ্যা রাতি
বিদীর্ণ বনে মানুষের মনে
জ্বলে না বাতি!
.
বৃক্ষ লতা শুষ্ক হয়
রোদ্দুর তাপে
কক্ষে কাঁদে গৃহিনী
আঁধারে চুপে!
.
মেঘেরা ঝরে যায় অন্তহীন
মাাটির বক্ষ মলিন,
পাখির কণ্ঠে বেদনার সুর
ভাসে হায় নিশিদিন!
.
নদীতে দোলে না আর
পুস্পিতা শাপলা,
সাগরে চলে না নাবিক
তবু জল নির্ভীক!
.
সূর্যের দীপ্ত ছড়ায় ধরায়
আলোকিত হয় জন
নিথর তবু মনুষ্যের প্রাণ
তূর্যধ্বনি নিভু মন!
.
অবিরাম ছুঁয়ে যায় দেবতা
বলে যায় দিশা,
সৃষ্টিজুড়ে চলছে দাবানল
জনে অন্যায় মিশা!

Saturday, 9 February 2019

নিকৃষ্ট


আয়নায় আমি দাঁড়িয়ে দেখি
নিজের সুরত বন্য
শত অন্যায় শত অনাচার দেখে
নিথর ছিলাম সে'জন্য!
.
নিজেকে দেখে ঘৃণা লাগে
প্রহার করতে সাধ যে জাগে
এমন হয়েছে এর আগে
নির্বোধ হওয়ার অনুরাগে!
.
নিজেকে আমি মানুষ বলি
মানব সেবা হৃদয়ে ভুলি
বেঁচে থাকতে শুধু হস্ততুলি
কে বলে আমি মানুষ_মূলে?
.
ধর্ম আজ শয়নে রেখে_শুধু
নয়নে খুঁজে যাই বিলাসিতা
মর্ম আজ কলুষিত কু’কর্মে
লজ্জিত করেছি মানবতা!
.
দেখেছি আমি জাগিনী-রাগিণী
বেঁচে থাকার মোহে ছিলাম চুপ
মানবতার বিপর্যয় দেখেও আমি
প্রতিবাদে দেইনি ডুব!
.
কেঁদে কেঁদে মাতা ভগিনী আমার
দেহের জল করেছে শেষ
তবু আমি অসভ্যতার রঙের ঢঙে
ফুর্তি করে_নিয়েছি রেস্ট!
.
তাকিয়ে দেখেনি জননীর আত্ম'ক্রন্দন
অনুধাবন করিনি বিধাতার সত্য স্পন্দন
থেকেছি শুধু_শয়তানের শয়তানীতে মগ্ন
হয়ে বিভোর সকাল সন্ধ্যা_রাত্রি লগ্ন!
.
এতো নগণ্য এতো জঘন্য_আমিই
অন্যে আর বলবে কি
নিজেকে দেখে আজ শয়তান ভাবি
মানুষ নই আমি_ ছি!

Thursday, 7 February 2019

সত্তা

পথে পথে আমি হেঁটে দেখেছি
মানুষের বাহাদুরি,
দেখে দেখে আমি বেদনা-বিধুর
আমার বয়স কুঁড়ি!
.
চোখের সমানে থরথর করে
মরতে দেখেছি জীব,
দেখে দেখে আমি ইহ জন্মে
বোধহয় হয়েছি কীট!
.
শ্রেষ্ঠ মানুষকে নষ্ট দেখেছি
দেখেছি তাদের স্বৈরাচারী,
দেখেছি আমি আতঙ্কিত_নারী
দেখেছি আমি মানুষের আহাজারি!
.
দেখেছি আমি মানুষের মাঝে
শুধুই নিন্দা ছড়া,
দেখেছি আমি সকল কাজে
হয়েছি আমি আধামরা!
.
সূর্য উদয়ে আমি দেখেছি সত্য
নীরবে তুলেছি আপন হস্ত
কেঁদেছি আমি অকাতরে
মুখ লুকিয়ে ছোট্ট ঘরে!
.
আর নয় আজ চুপটি করে থাকা
দিগন্তে আজ চেতনা রেখা,
উদ্ভাসিত মুক্তি নিশান, চল রে নওজোয়ান
ঘুম থেকে জেগে উঠরে তোরা,
এসেছে আল্লাহর বিধান! উঠরে নওজোয়ান!
.
আর কতকাল কালঘুমে তোরা
থাকবে বিভোর বসি,
সকল দিগন্তে দ্যাখ, রব উঠেছে
শুন রে সেই মুক্তি বাণী!
.
ভেঙে ফেল সব আজ প্রাচীর তোরা
নব যুগ সৃষ্টি হেতু _নবীন সৈনদল,
রেগে উঠে আজ ছড়িয়ে দে মর্ত্যে
ঐক্য প্রীতির সব সুনির্মল!
.
বীর সন্তান তোরা জানিস নে রে
কোন ছলনায় তা ভুলেছিস?
সকল দেহে একি রক্ত প্রবাহ
কেন করছিস মন্দ কুর্নিশ?
.
আমিও যে তোদের ভাই লাগি আর
আত্মায় লাগি টান,
তোদের রক্তপাত দেখলে যে আমার
মন হয় খানখান!
.
কেন তোরা ছিন্নভিন্ন_কেন বেপরোয়া
নিজের কথা ভাবিস শুধু
জাতির কল্যাণে_ কেন শোয়া?
কোন মুখ নিয়ে স্বার্গে যাবি?
কোন মুখে তুই চাইস রে দোয়া?
.
আকুল মিনতি করছি তোদের
ব্যাকুল আমার চিত্ত,
সুন্দর এক পৃথিবী দেখবো, এই
বাসনায় রয়েছি নিত্য!
.
ত্যাগ করে দে সব অন্যায়_মিথ্যা
হয়ে যাই আয় এক আত্মা,
তুমি আমি, আমি তুমি সবাই আমরা
এক মহান স্রষ্টার সত্তা!

যাবে?


আকশের নীল জোছনায়
চলো আজ ভিজি দু’জন
মনেরি শূন্য আঙ্গিনায়
চলো আজ মিলি দু’জন!
.
ভুলে গিয়ে শৈবব
পুরোনো ব্যথা অনুভব
চলো দিগন্তে যাই হারিয়ে
যেথায় প্রকৃতি মগ্ন করে মন!
.
এই লোকালয় থেকে দূরে
যেথায় পাখি গায় গান, মিষ্টি সুরে
আকাশে উড়ে উড়ে; দৃষ্টি নীরে,
চলো সেই দেশে; অতিথির বেশে!
চলো যাই সেই অজানায়
.
যেথায় সবুজ ভুমি সঙ্গে তুমি
চেনা প্রিয় স্মৃতি অমলিন গীতি
যা রবে আমাদের জরিয়ে
যাবে সেই নীলিমায় হারিয়ে?

সুনির্মল

সকলের অগোচরে আমার অন্তরে
তোমার চলাচল,
আমার বাড়ির সুদূরে সবুজ প্রান্তরে
তোমার অনর্গল!
.
নীল আকাশে শ্রান্ত বাতাসে
তোমার সৈন্যদল,
পরাজিত করে আমায় প্রিয়
আমি দৈন্য'বল!
.
আমার প্রার্থনায় মুষ্টি'হাতে
তুমি সুনির্মল,
আমার উদাসীন সারারাতে
তুমি চন্দ্রজল!

Wednesday, 6 February 2019

মেম

আসমানেতে থাকো তুমি হয়ে চোখে চাঁদ
তোমায় নিয়ে স্বপ্ন দেখে ক্ষয়ে যায় রাত,
আমার মনে ফুল হয়ে তুমি ফুটো রোজি
আমার মনের উঠোনেতে তুমি পূর্ণিমা শশী!
.
পাখিদের কণ্ঠে তুমি প্রভাতের গান
নিশি শেষে ভোরে তুমি শিশিরে স্নান,
মেঠোপথে তুমিই আমার ধুলো বালিকণা
তোমায় নিয়ে মগ্ন থেকে হই আনমনা!
.
আমার কাছে তুমি সদাই প্রকৃতি মেম
আমার মাঝে তুমি সদাই অন্য হেম,
আমার ঘরের বাতায়নে তুমি স্বচ্ছ আলো
আমার বাড়ির উঠোনেতে তুমি প্রদীপ জ্বালো!