Monday, 18 February 2019

চিরকুট

খুব অল্প সময়ে আমাদের পরিচয়, অনেক মলিন ব্যথা হয় বিনিময়, হয় খুব সযতনে ভালো লাগা সঞ্চয়, 
মনে ভয়, তবু কেন জানি লাগে জয় জয়! তুমি দেখতে ভালো- সূর্য আলো, কথায় তোমার ছন্দ ছড়ালো! 
এমন আমি আগেও দেখেছি, মনে মনে আনমনে হয়তো তোমায় কিছুটা লিখেছি!
শুনেছি ভালো লাগা থেকেই ভালোবাসা ভাষাহীন হয় উদ্ভাসিত, 
আমি রীতিমত অনেকটা আতঙ্কিত!
.
আমি জানি এটা আমার ভুল, অবশেষে হারাব বন্ধু হওয়ার বন্ধন কূল!
তুমি ভীষণ সতেজ, ভীষণ প্রকৃতি আমেজ, ভীষণ শুদ্ধ এক মেঘ-বালিকা!
যদি কথা বলি, সুদূরে ছুঁয়ে চলি, জানি তুমি- শুদ্ধই রবে, নব নব!
.
এই দিনগুলো যেন না হয় মলিন, কোন ক্রমে,
অযতনে ভুল ভ্রমে!
যদি দূরে চলে যাও আঁখি হয়ে যাবে নদী,
অশ্রু ঝরবে নিরবধি, হয়তো জীবন যাবে থেমে!
তুমি আমার কাছে অনেকটা দামী,
অনেকটা অনুভবে অবুঝ পাগলামী!
.
প্রভাতের ফুল তোমার এলোমেলো চুল,
“পুষ্প আর চন্দন থালায় যখন তুমি হেঁটে যাবে মন্দিরে,
তখন আমি হয়তো অনুগামী হয়ে রব বন্দী রে”!
কিছু প্রার্থনা হবে প্রভুর নিকট নিবেদন,
কিছু প্রার্থনা হবে আমার নিকট সমর্পণ!
তুমি মাথা নুয়ে, হয়তো পা ছুয়ে, করবে প্রণাম,
আমি বিস্মৃত হয়ে, হয়তো তোমায় করব সম্মান!
সে মধুময় সুন্দর ক্ষণ হয়তো ঈশ্বর দেখবে আসমানে বসে,
বলবে অনেক কথা আমাদের নিয়ে, আনায়সে হেসে হেসে!
.
শুনেছি মাতা দুর্গা দেবতার প্রাণ, মাতার ভালোবাসায় দেবতা হয় দয়া’মান,
কতটুকু সত্য কতটুকু কল্পনা, আমার জানা নেই! আমি শুধু জানি,
কন্যালোক হয় পিতাসহ স্বামীর কাছে রাণী! এটা অমলিন সত্য বাণী।
.
তোমার জীবন তেমন হয়নি পড়া, আপন মনে তোমার কি স্বপ্ন গড়া,
শুধু জেনেছি তুমি সহজ, দেখেছি তোমার সরলতা,
দেখেছি তোমার নীরবতা আমার কথার ভিরে,
আমি নীর হারা পাখি, উড়ে উড়ে ভবঘুরে অনেকের খোঁজ রাখি!
আমি দেখতে অসামান্য কালো,
চোখে মুখে লজ্জা ছলছল,
সুরতে সজ্জা পরিচিত ধুলো!
.
সেদিন আকাশে দক্ষিণা বাতাসে শুনেছি পাখিদের কলরব,
তাদের মুখে আনন্দ সুখে তোমারই অনুভব!
তুমি নাকি তাঁদের সঙ্গে কাটিয়েছ শৈশব,
তোমার নিয়ে তাঁরা আত্মাহারা তুমিই নাকি ওদের সব!
.
শুনেছি তোমার ভাই মিথুনের কথা,
সে নাকি তোমার তাজ্জব মিতা!
ছবি দেখে তার, আমি করছি ওর এই সমাচার,
সে বড্ড দুষ্টু তবে তার ভালো ব্যবহার-
আমি অনুভব করেছি ওর সংস্কার!
“দেখে তার মুখ লাগে প্রাণে সুখ,
দূর হয় দুখ, সে তোমার প্রিয় অসুখ”!
সত্য বলেছি কি আমি নন্দিনী?
আমার নির্ণয়ে সে অনেক স্মার্ট সচেতন ছেলে,
কথা তার যেমনই হয় না কেন, দৃষ্টিতে তার তোমার মায়া মেলে!
এমনটা আমার মনে হয়,
এটা আমার কোনো পদ্য নয়!
সে আসলেই একজন সুষ্ঠু-বিশিষ্ট লোক,
চোখে চোখ রেখে তুমি চেয়ে দেখো,
সে বড় হয়ে হবে -তোমার থেকে অনেক বড়লোক!
.
“মিথুন এক দুর্দান্ত বালক
উড়ন্ত তাঁর কদমে কদম
অফুরন্ত তাঁর ভালোবাসা
তোমার জন্য অবিরাম”!
.
সামান্য অভিমান মায়াভরা অভিধান সবটুকু মাতা-পিতা,
তুমি লক্ষ্মী তুমি নন্দিনী তুমি পুস্প তুমি অপরিচিতা!
“আঙ্কেল এর একটি ছবি দেখেছি, মুখে দেখেছি তাঁর মায়াভরা হাসি,
সত্যি করে বলতে পারি, সে তোমাকে বলে থাকে, মা তোকে খুব ভালোবাসি!
নানা কাজে স্পর্শকাতর সেই নুয়ে থাকা হাত,
তোমায় অনেক আদর করে,
বলে তুমি ঘুমিয়ে পড় মা-হয়েছে খুব রাত”!
.
“আন্টির সম্পর্কে এক জীবন বললেও হবে হয়তো কম,
তিনি এক হিমালয় স্নেহ-মায়া-মমতা অপার, তিনি অনুপম!
তোমার হাসিতে তিনি দুঃখ হারিয়ে ফেলে,
তোমার ভাষাতে তিনি সুখের আঁচল মেলে”!

“খুনসুটি অনুরাগ অদেখা অভিযোগ সব কিছু ভোলে
যখন তুমি শহর থেকে বাড়ি যাও কিছু না বলে!
তোমার হঠাৎ উপস্থিতি সুদূরে মিলায় সব অনুযোগ
তুমি তাঁর প্রিয় সুখ তুমি তাঁর প্রিয় চোখ”!
.
ফিরছি তোমার কথায়, তুমি অজানায় রয়েছ নীরবতায়,
তোমার সম্পর্কে আজ আর নয়,
কিছু তথ্য থাকুক গুপ্ত থাকুক সঞ্চয়!
সবশেষে তোমার জন্য এই ছোট উক্তি
আমার ভাষায় ছোট করে করিলাম মুক্তি!

“তুমি মানে সূর্যে অঙ্গে নিত্য দীপ্ত
তুমি মানে গভীর রজনীতে শালীন
তুমি মানে সৃষ্টি রঙে মানব মনে নুরী
তুমি মানে সবুজ লতায় চির অমলিন”!

Sunday, 17 February 2019

ভালোবাসা কলুষিত

ভালোবাসা নয় দু'জন ভালো থাকার নাম
কলুষিত করে সম্পর্ক_সমাজে হয়ে বদনাম!
ভালোবাসা মানে অবিনশ্বর জানে_ সুনাম
আপন সুখ গুটিয়ে_ অন্যের সুখ শিরোনাম!
.
ভালোবাসা মানব ভাষায়_অমলিন পদ্ম’জল
সে ভালোবাসা দানব নেশায় হয়েছে দুর্বল!
চোখে মুখে আমিত্ব সুখে_লোকে অসুখে ভরা
প্রকৃত ভালোবাসা ভাষাহীন_তবু তা শুদ্ধ’জরা!
.
আত্মাহীন সভ্যতায়_ভালোবাসা ভোগ্য পণ্য
হৃদয়ের প্রেম দামী হেম_ভেঙে হয়েছে চূর্ণ!
ভালোবেসেছিল যারা_ তারা আজ বিশ্বে
ভালোবেসে অনায়াসে উঠেছে তারাই শীর্ষে!
.
তোমরা যাকে ভালোবাসা বল_আসলে কি তা প্রেম?
স্বয়ং চিত্তে প্রশ্ন করে দেখো_তা প্রেম না শুধু খেলা!
ভালোবাসা মানবকে নিরাশ করে_ তবে করে শুদ্ধ
মোহিত ভালোবাসা মানবকে লুপ্ত করে_করে রুদ্ধ!
.
ভালোবাসা ভালোবেসে সুন্দর করে মানব আত্মা
যুগের লীলায় সম্মান বিলায়_প্রেম আজ ভোক্তা!
ভালোবাসায় চেতন হয় মন_ মৃত হয় অচেতন প্রাণ
কিছু কথায় কিছু ব্যথায়_হয় না তা কভু নির্বাসন!

Sunday, 10 February 2019

স্বপ্নঘোর

তোমায় কিনে দিবো লাল শাড়ি
তুমি করে থেকো না আড়ি,
তোমার শখ আমি পূরণ করবো
তুমি আসো আমার বাড়ি!
আমি তোমার নতুন বর
কিছুটা আনাড়ি!
.
পুকুর পারে দুপুর বেলা
করবো দু'জন স্নান,
গল্প হবে অল্প অল্প; হবে সুখের গান!
পাখিরা আমাদের দেখে, যদি করে অভিমান!
ক্ষমা চেয়ে নিবো মোরা; দিয়ে সম্মান!
.
বাড়ির উঠোনে বসে দু'জনে
কথা বলতে বলতে খাবো,
তুমি আমার পাতে মাছ দেবে_আর
আমি তোমার পাতে দেবো!
দু'জনের এমন ভালোবাসা
আকাশে ওড়াবো!

দৃষ্টিহীন

জীর্ণ দেশে দিনের শেষে
নামে সন্ধ্যা রাতি
বিদীর্ণ বনে মানুষের মনে
জ্বলে না বাতি!
.
বৃক্ষ লতা শুষ্ক হয়
রোদ্দুর তাপে
কক্ষে কাঁদে গৃহিনী
আঁধারে চুপে!
.
মেঘেরা ঝরে যায় অন্তহীন
মাাটির বক্ষ মলিন,
পাখির কণ্ঠে বেদনার সুর
ভাসে হায় নিশিদিন!
.
নদীতে দোলে না আর
পুস্পিতা শাপলা,
সাগরে চলে না নাবিক
তবু জল নির্ভীক!
.
সূর্যের দীপ্ত ছড়ায় ধরায়
আলোকিত হয় জন
নিথর তবু মনুষ্যের প্রাণ
তূর্যধ্বনি নিভু মন!
.
অবিরাম ছুঁয়ে যায় দেবতা
বলে যায় দিশা,
সৃষ্টিজুড়ে চলছে দাবানল
জনে অন্যায় মিশা!

Saturday, 9 February 2019

নিকৃষ্ট


আয়নায় আমি দাঁড়িয়ে দেখি
নিজের সুরত বন্য
শত অন্যায় শত অনাচার দেখে
নিথর ছিলাম সে'জন্য!
.
নিজেকে দেখে ঘৃণা লাগে
প্রহার করতে সাধ যে জাগে
এমন হয়েছে এর আগে
নির্বোধ হওয়ার অনুরাগে!
.
নিজেকে আমি মানুষ বলি
মানব সেবা হৃদয়ে ভুলি
বেঁচে থাকতে শুধু হস্ততুলি
কে বলে আমি মানুষ_মূলে?
.
ধর্ম আজ শয়নে রেখে_শুধু
নয়নে খুঁজে যাই বিলাসিতা
মর্ম আজ কলুষিত কু’কর্মে
লজ্জিত করেছি মানবতা!
.
দেখেছি আমি জাগিনী-রাগিণী
বেঁচে থাকার মোহে ছিলাম চুপ
মানবতার বিপর্যয় দেখেও আমি
প্রতিবাদে দেইনি ডুব!
.
কেঁদে কেঁদে মাতা ভগিনী আমার
দেহের জল করেছে শেষ
তবু আমি অসভ্যতার রঙের ঢঙে
ফুর্তি করে_নিয়েছি রেস্ট!
.
তাকিয়ে দেখেনি জননীর আত্ম'ক্রন্দন
অনুধাবন করিনি বিধাতার সত্য স্পন্দন
থেকেছি শুধু_শয়তানের শয়তানীতে মগ্ন
হয়ে বিভোর সকাল সন্ধ্যা_রাত্রি লগ্ন!
.
এতো নগণ্য এতো জঘন্য_আমিই
অন্যে আর বলবে কি
নিজেকে দেখে আজ শয়তান ভাবি
মানুষ নই আমি_ ছি!

Thursday, 7 February 2019

সত্তা

পথে পথে আমি হেঁটে দেখেছি
মানুষের বাহাদুরি,
দেখে দেখে আমি বেদনা-বিধুর
আমার বয়স কুঁড়ি!
.
চোখের সমানে থরথর করে
মরতে দেখেছি জীব,
দেখে দেখে আমি ইহ জন্মে
বোধহয় হয়েছি কীট!
.
শ্রেষ্ঠ মানুষকে নষ্ট দেখেছি
দেখেছি তাদের স্বৈরাচারী,
দেখেছি আমি আতঙ্কিত_নারী
দেখেছি আমি মানুষের আহাজারি!
.
দেখেছি আমি মানুষের মাঝে
শুধুই নিন্দা ছড়া,
দেখেছি আমি সকল কাজে
হয়েছি আমি আধামরা!
.
সূর্য উদয়ে আমি দেখেছি সত্য
নীরবে তুলেছি আপন হস্ত
কেঁদেছি আমি অকাতরে
মুখ লুকিয়ে ছোট্ট ঘরে!
.
আর নয় আজ চুপটি করে থাকা
দিগন্তে আজ চেতনা রেখা,
উদ্ভাসিত মুক্তি নিশান, চল রে নওজোয়ান
ঘুম থেকে জেগে উঠরে তোরা,
এসেছে আল্লাহর বিধান! উঠরে নওজোয়ান!
.
আর কতকাল কালঘুমে তোরা
থাকবে বিভোর বসি,
সকল দিগন্তে দ্যাখ, রব উঠেছে
শুন রে সেই মুক্তি বাণী!
.
ভেঙে ফেল সব আজ প্রাচীর তোরা
নব যুগ সৃষ্টি হেতু _নবীন সৈনদল,
রেগে উঠে আজ ছড়িয়ে দে মর্ত্যে
ঐক্য প্রীতির সব সুনির্মল!
.
বীর সন্তান তোরা জানিস নে রে
কোন ছলনায় তা ভুলেছিস?
সকল দেহে একি রক্ত প্রবাহ
কেন করছিস মন্দ কুর্নিশ?
.
আমিও যে তোদের ভাই লাগি আর
আত্মায় লাগি টান,
তোদের রক্তপাত দেখলে যে আমার
মন হয় খানখান!
.
কেন তোরা ছিন্নভিন্ন_কেন বেপরোয়া
নিজের কথা ভাবিস শুধু
জাতির কল্যাণে_ কেন শোয়া?
কোন মুখ নিয়ে স্বার্গে যাবি?
কোন মুখে তুই চাইস রে দোয়া?
.
আকুল মিনতি করছি তোদের
ব্যাকুল আমার চিত্ত,
সুন্দর এক পৃথিবী দেখবো, এই
বাসনায় রয়েছি নিত্য!
.
ত্যাগ করে দে সব অন্যায়_মিথ্যা
হয়ে যাই আয় এক আত্মা,
তুমি আমি, আমি তুমি সবাই আমরা
এক মহান স্রষ্টার সত্তা!

যাবে?


আকশের নীল জোছনায়
চলো আজ ভিজি দু’জন
মনেরি শূন্য আঙ্গিনায়
চলো আজ মিলি দু’জন!
.
ভুলে গিয়ে শৈবব
পুরোনো ব্যথা অনুভব
চলো দিগন্তে যাই হারিয়ে
যেথায় প্রকৃতি মগ্ন করে মন!
.
এই লোকালয় থেকে দূরে
যেথায় পাখি গায় গান, মিষ্টি সুরে
আকাশে উড়ে উড়ে; দৃষ্টি নীরে,
চলো সেই দেশে; অতিথির বেশে!
চলো যাই সেই অজানায়
.
যেথায় সবুজ ভুমি সঙ্গে তুমি
চেনা প্রিয় স্মৃতি অমলিন গীতি
যা রবে আমাদের জরিয়ে
যাবে সেই নীলিমায় হারিয়ে?

সুনির্মল

সকলের অগোচরে আমার অন্তরে
তোমার চলাচল,
আমার বাড়ির সুদূরে সবুজ প্রান্তরে
তোমার অনর্গল!
.
নীল আকাশে শ্রান্ত বাতাসে
তোমার সৈন্যদল,
পরাজিত করে আমায় প্রিয়
আমি দৈন্য'বল!
.
আমার প্রার্থনায় মুষ্টি'হাতে
তুমি সুনির্মল,
আমার উদাসীন সারারাতে
তুমি চন্দ্রজল!

Wednesday, 6 February 2019

মেম

আসমানেতে থাকো তুমি হয়ে চোখে চাঁদ
তোমায় নিয়ে স্বপ্ন দেখে ক্ষয়ে যায় রাত,
আমার মনে ফুল হয়ে তুমি ফুটো রোজি
আমার মনের উঠোনেতে তুমি পূর্ণিমা শশী!
.
পাখিদের কণ্ঠে তুমি প্রভাতের গান
নিশি শেষে ভোরে তুমি শিশিরে স্নান,
মেঠোপথে তুমিই আমার ধুলো বালিকণা
তোমায় নিয়ে মগ্ন থেকে হই আনমনা!
.
আমার কাছে তুমি সদাই প্রকৃতি মেম
আমার মাঝে তুমি সদাই অন্য হেম,
আমার ঘরের বাতায়নে তুমি স্বচ্ছ আলো
আমার বাড়ির উঠোনেতে তুমি প্রদীপ জ্বালো!

Tuesday, 5 February 2019

আমি সমাজের সাধারণ মানুষের সাথে মিশে দেখেছি, তাঁদের মধ্যে বিরাট প্রকৃত ধর্মের শূন্যতা। সমাজের সাধারণকে জানানোই হয়নি, ধর্ম কাকে বলে, মানবতা সম্প্রীতি কাকে বলে। যুগ যুগ ধরে ধর্মের পুরোহিত পণ্ডিতরা, শুধু কিছু উপাসনা আর নিয়মকে ধর্ম বলে, সাধারণ মানুষের সামনে পেশ করেছে। ফলে সমাজের সাধারণ মানুষ-মানুষের কল্যাণে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়নি, সেই মনোভাব সৃষ্টি হয়নি। সাধারণ মানুষ বুঝতেই পারেনি, কোনটা ধর্মের কাজ, কোনটা অধর্ম- অন্যায়। আমি যখন সমাজের সাধারণ মানুষের সামনে, ধর্মের প্রকৃত রূপ তুলে ধরি, তখন তারা তাজ্জব হয়ে আমার দিকে তাকিয়ে থাকে।

যদি মানুষকে জানানো হতো, অন্যায়ের সাথে আপোষ করা অধর্ম-অন্যায়, সমাজে অন্যায় অত্যাচার বিরাজ করলে, কোনো ইবাদত আল্লাহ কাছে ঈশ্বরের কাছে ভগবানের কাছে গ্রহনযোগ্য হয় না। তা হলে আজ আর এমন বৈষম্যপূর্ণ পরিবেশ সমাজে বিরাজ করতো না। মানুষ মানুষের ক্ষতি করার জন্য, উঠেপড়ে লাগতো না।

মানুষকে যখন ধর্মব্যবসায়ীরা নিজেদের স্বার্থের জন্য ধর্মের শিক্ষা থেকে দূর করেছে, তখন মানুষের মাঝে সৃষ্টি হয়েছে, শুধু নিজেকে নিয়ে ভাবার নিজেস্ব চিন্তা-ভাবনা। কারণ সাধারণ মানুষ ধর্মের পণ্ডিতদের অন্ধের মতো বিশ্বাস করে।
আমি যখন সমাজের মানুষকে বলি, আসুন আমরা ন্যায়ের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হই, তখন তারা নানা রকম দ্বিধায় ভোগে। কারণ তারা এ পর্যন্ত এই ধর্মব্যবসায়ীদের দ্বারা এমনভাবে প্রতারিত হয়েছে যে, এখন তারা কাউকে বিশ্বাস করতে সাহস পায় না। মানুষের প্রতি মানুষের বিশ্বাসের স্থানটা এমনভাবে ধর্মব্যবসায়ীরা নষ্ট করেছে যে, এখন মানুষের ধর্মের প্রতি ঈমান থাকা সত্ত্বেও ধর্মের ন্যায় সত্যকে জীবনে মেনে নিতে পারছে না।

আমি যখন বলি, আল্লহর হুকুম মান্য না করলে, কেউ আর মো’মেন থাকে না, ধার্মিক থাকে না, তখন তারা চমকে উঠে। একি কথা, তা হলে আমরা ধার্মিক নই? তখন আমি বলি, “মানুষের ধর্ম মানবতা, যেভাবে আগুনের ধর্ম পোড়ানো, পানির ধর্ম ভেজানো”।

আমি প্রেরাই সময় বলে থাকি, আমার এই কথাকে পারলে কেউ, মিথ্যা প্রমাণিত করে দেখাইক। মানুষ যখন দুঃখে কষ্টে থাকে, তখন কারো প্রার্থনা আল্লাহর কাছে গৃহীত হবে না। এই কথা আমি নিজে থেকে বানিয়ে বলছি না, স্বয়ং আল্লাহ বলেছেন;
“তোমাদের পূর্ব কিংবা পুশ্চিমদিকে মুখ ফিরানোতে কোনো পূর্ণ নেই” 
“পূর্ণ আছে তাঁদের জন্য, যারা সৎকাজ করে অতঃপর মানুষকে মহব্বত করে”। 
[ সুরা বাকারা ২:১৭৭ ]

আমি খুব কাছ থেকে দেখেছি, আমাদের মহামান্য এমামুযযামানকে, তিনি বলতেন, “পৃথিবীজুড়ে যখন অশান্তির দাবানলে মানুষ দাউ দাউ করে জ্বলে, তখন কারো ধর্ম পরিচয় থাকে না, সকল ধর্ম পরিচয় মিথ্যা হয়ে যায়”। আমাদের শেষ রসূল (সাঃ) বলেছেন,

“পৃথিবীর এক প্রান্তে কেউ যদি না খেয়ে থাকে আর তোমরা পেট ভরে খেয়ে থাকো, তবে তোমাদের ধর্মপরায়ণ মানুষ নিজেকে মনে করা মিথ্যা হবে, আল্লাহর সাথে প্রতারণা করা হবে”। “তোমরা মনে রাখবে, সেই আসল মো’মেন, যে আল্লাহর হুকুম দিয়ে সমাজে শান্তি কায়েম রাখবে আর মানুষের না বলা ব্যথা বুঝবে, অতঃপর সেই ব্যথা সমাধানের জন্য ব্যাকুল হয়ে উঠবে”। 

আমরা হেযবুত তওহীদ মানুষের বেহালদশা দেখেছি দুঃখ কষ্ট দেখেছি এবং এই অবস্থার কারণ কি, তা জেনেছি। মানুষ যখন তওহীদ থেকে সরে গেছে, তখনি সৃষ্টি হয়েছে মানুষের জীবনে অন্যায় অশান্তি রক্তারক্তি। এই অবস্থা থেকে মানবজাতির একমাত্র মুক্তির পথ হচ্ছে, তওহীদে পুনরায় (back) করা। তওহীদের উপর পুনরায় পুরো মানবজাতিকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে, তবেই ফিরে আসবে, সমাজে দেশে বিশ্বে অনাবিল শান্তি।

আকাশ তার সমস্ত রহমত খুলে দিবে, জমিন তার সমস্ত নেয়াত উজাড় করে দিবে, প্রকৃতি তার সমস্ত কিছু নিবেদন করবে মানুষের সেবায়। যদি আমরা সত্য ন্যায়ের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হই।

Monday, 4 February 2019

স্নান


দেখেছি আমি কত মানুষের
বুক পকেটে জমা দুঃখ
দেখেছি আমি শত বনিতার
ভয়ে ভয়ে মুখ রুক্ষ!
.
দেখেছি আমি সবুজ গ্রামে
শিশুদের কোলাহল
দেখেছি আমি দুচোখে তাদের
হতে আজ দুর্বল!
.
দেখেছি আমি সব কিছুতে
মানুষের আহাজারি
দেখেছি আমি সব শিশুতে
দলাদলি মারামারি!
.
দেখেছি আমি আলোয় মানুষের
স্বার্থের মহামারী
দেখেছি আমি ভালোয় ফানুসের
মর্ত্যে সে অধিকারী!
.
দেখেছি আমি বহুত সমাজেতে
শ্বাস প্রবাহিত প্রাণ
শুনেছি আমি বহুত বাতাসেতে
বেদনা ভরা গান!
.
হয়েছি আমি আজ ভীষণ কষ্টে
শূন্য জলে স্নান,
হয়েছি আমি আজ জনতার চোখে
পরিবর্তন নিশান।

সেধে

তুমি বুক পকেটে দুঃখ রেখে
হেসে যাচ্ছে রোজ
আমি নীল’নয়নে সুখ দেখে
ভেসে হচ্ছি নিখোঁজ!
.
তুমি শিশুর মুখে হাসি দেখে
দুঃখ ভুলে থাকো,
তুমি নীলআকাশে চেয়ে থেকে
ব্যথা লুকিয়ে রাখো!
.
আমি ফুলের গন্ধে বিলীন হয়ে
মলিন হয়ে থাকি,
আমি চুলের মধ্যে শ্যাম্পু দিয়ে
ব্যথা চেপে রাখি!
.
তুমি বালিশেতে নালিশ করে
নীরবে যাচ্ছ কেঁদে,
আমি বেদনায় মালিশ করে
নিত্য যাচ্ছি সেধে।

মৃত

আমি সে গান আর গাইবো না
সে স্মৃতি আর ছুঁইবো না
বিলীন হবো না আর আমি
তোমার ঐ... ভালোবাসাতে!

অনেক নিভৃতে কেঁদেছি আমি
অনেক হয়েছি আজ ক্ষুন্ন
তোমার প্রেমেপড়ে হয়েছি আমি
অনেকের চোখে নগণ্য!

অনাদরে কত জ্বলেছি আমি
ভুলে গিয়ে আমার হিত
তোমার জন্য নত হয়েছি আমি
হয়েছি আজ হিয়েতে মৃত!